নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের স্বীকৃতি দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আরাকান আর্মি। ছবিঃ এএ প্রেস
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট- মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকারের কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেবে না স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের স্বীকৃতি দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তারা।
থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমার সংবাদমাধ্যম ইরাবতী-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এএ মুখপাত্র খাইং থুকহা বলেন, “আমরা আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কোনো নির্বাচন হতে দেব না। মিয়ানমার সরকারের কোনো নির্বাচনই রাখাইন জনগণের কল্যাণে হয়নি। এই নির্বাচন কেবলই ধোঁকা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।”
২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘অপারেশন-১০২৭’ শুরু করে এএ রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এবং পাশের চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে তারা রাখাইনের রাজধানী সিতওয়েকে ঘিরে রেখেছে এবং চীনের বড় বিনিয়োগ প্রকল্পসমৃদ্ধ কায়াকফিউ দ্বীপ দখলে তীব্র লড়াই চালাচ্ছে।
এএ দাবি করেছে, জরুরি আইন জারি তাদের অভিযান বা লক্ষ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বর্তমানে কায়াকফিউ টাউনশিপের ৩২-পুলিশ ব্যাটালিয়ন দখলের জন্য যুদ্ধ চলছে। অন্যদিকে জান্তা বাহিনী সিতওয়ে, পায়াকতাও এবং
পোন্নাগিউন টাউনশিপে গোলন্দাজ হামলা চালিয়ে ১১ হাজারের বেশি বাড়িঘর, স্কুল ও হাসপাতাল ধ্বংস করেছে।
গবেষক ও স্থানীয় নেতাদের মতে, সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের জীবনযাত্রা চরম দুরবস্থায়। এএ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
রাখাইনে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দীর্ঘদিনের, তবে বর্তমানে আরাকান আর্মি সেই সংগ্রামের প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, জান্তার নির্বাচনী প্রচেষ্টা তারা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করবে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সুত্রঃ এএ প্রেস