যাত্রা শুরু করার সময় নৌকাটিতে ৯২ থেকে ৯৭ জন অভিবাসী ছিলেন। ছবিঃ এপি
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের কাছে প্রায় ১০০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করে দ্বীপের একটি কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
নৌকাডুবিতে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, লিবিয়া থেকে যাত্রা শুরু করার সময় নৌকাটিতে ৯২ থেকে ৯৭ জন অভিবাসী ছিলেন। এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ২০টি মৃতদেহ পেয়েছে এবং আরও ১২ থেকে ১৭ জনের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, চলতি বছর এই ঘটনার আগে পর্যন্তই বিপজ্জনক মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ৬৭৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিলিপ্পো উঙ্গারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ল্যাম্পেডুসার উপকূলে আরেকটি নৌকাডুবিতে গভীর শোক, যেখানে আমরা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সহায়তা করছি।”
ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, বুধবার সকালে ল্যাম্পেডুসা উপকূল থেকে প্রায় ১৪ মাইল দূরে ইতালির আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একটি বিমান উল্টে যাওয়া নৌকা এবং ভাসমান মৃতদেহ দেখতে পায়। এর আগে সকালে দুটি নৌকায় করে অভিবাসীরা লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এর মধ্যে একটি নৌকায় ফুটো হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করলে যাত্রীরা অন্য নৌকায় ওঠে। পরে সেই নৌকাটিও উল্টে গিয়ে ডুবে যায়।
ইতালি দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পাড়ি জমানো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। ভূমধ্যসাগরের এই বিপজ্জনক রুটে প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে, আর এবারের নৌকাডুবি তার সর্বশেষ উদাহরণ।
সুত্রঃ আল জাজিরা