লুট হওয়া সব সাদা পাথর সাত দিনের মধ্যে আগের জায়গায় ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে লুট হওয়া সব সাদা পাথর সাত দিনের মধ্যে আগের জায়গায় ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে লুটকারীদের তালিকা দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দায়ের করা অপর এক রিটের শুনানির জন্য আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ। রিটে পাথর লুটকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়।
এর আগে, গত বুধবার (১৩ আগস্ট) সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসন পাথর লুট বন্ধ ও লুট হওয়া পাথর ফেরাতে পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে রয়েছে— জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনীর টহল, পুলিশের চেকপোস্টে যৌথ বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি, অবৈধ ক্রাশিং মেশিন বন্ধে নিয়মিত অভিযান, লুটকারীদের গ্রেপ্তার এবং উদ্ধার হওয়া পাথর আগের স্থানে পুনঃস্থাপন।
গত এক বছর ধরে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ভোলাগঞ্জ ও অন্যান্য পাথর কোয়ারিতে ব্যাপক লুটপাট চলে আসছে। ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কোয়ারি চালুর দাবিতে আন্দোলন করে, যা ‘পাথর খেকো’ চক্রের স্বার্থ রক্ষার অভিযোগে বিতর্কিত হয়। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চার বছর পরিবেশকর্মী হিসেবে সিলেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে পেরেছি, এখন উপদেষ্টা হয়েও পারলাম না।” পরিবেশবাদী সংগঠন ও সুশীল সমাজও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
প্রশাসনের তৎপরতার অংশ হিসেবে বুধবার সাদা পাথর এলাকায় দুদকের ৯ সদস্যের একটি তদন্ত দল যায়। তারা জানায়, লুটপাটে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায় সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি পর্যটন খাতে ক্ষতির সঙ্গে প্রশাসনের যোগসাজশ আছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা অভিযোগ করে আসছেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই লুটপাট চলছে, যা প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন শিল্প উভয়কেই হুমকির মুখে ফেলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাদা পাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা রক্ষা পাবে।