আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন,১৫ আগষ্ট- আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে, রাতের অন্ধকারে সংঘটিত হয়েছিল এক কলঙ্কজনক ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বাসভবনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর সঙ্গে নিহত হন সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনসহ আরও ২৬ জন। ঘাতকের বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলও।
শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একজন নেতা নন, তিনি এক জীবন্ত ইতিহাস, এক অবিচল সংগ্রামী চেতনা। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল বঞ্চিত বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা। ষাটের দশকে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের মুখপাত্র। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তাঁর বজ্রকণ্ঠের ঘোষণা “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের অদম্য চেতনায় উজ্জীবিত করেছিল। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অর্জিত স্বাধীনতার পেছনে ছিল তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অটল নেতৃত্ব এবং আত্মত্যাগ।
কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সেই মহান নেতাকেই হত্যা করে একাত্তরের পরাজিত শক্তি। পরবর্তীতে দেশজুড়ে আরোপিত হয় সামরিক শাসন, স্তব্ধ হয়ে যায় গণতন্ত্রের ধারা, মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় জনগণের কাছ থেকে। হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে জারি হয় কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ যা ছিল ইতিহাসের প্রতি চরম অবমাননা।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বিচারপ্রক্রিয়ার দ্বার উন্মুক্ত করে। দীর্ঘ ২১ বছরের অবরুদ্ধ ন্যায়বিচারের পথ তখনই খুলে যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এখনও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা থামেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ও সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিহ্ন ভেঙে ফেলার ঘটনা শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতই নয়, বরং জাতীয় স্মৃতিকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য প্রয়াস।
১৫ আগস্ট শুধু শোকের দিন নয়, এটি আমাদের আত্মসমালোচনা ও সতর্কতার দিনও। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও ত্যাগকে যারা বিকৃত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো আজ সময়ের দাবি। ইতিহাসকে বিকৃত করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। তাই আমাদের দায়িত্ব সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের শপথ পুনর্নবীকরণ করা।
ইতিহাস বিকৃতির অন্ধকার জয় করবে সত্যের আলো। এটাই হোক ১৫ আগস্টে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।