তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকালে বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে চলমান এই আন্দোলনে…
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া। কারণ রাশিয়া একটি বড় শক্তি, ইউক্রেন তেমন নয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকের পর শোনা যাচ্ছে, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে পুতিন ইউক্রেনের আরও ভূমি দাবি করেছেন। বিশেষ করে দোনেৎস্ক অঞ্চলকে ঘিরেই তার দাবি জোরালো। এ অঞ্চল ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরেই রুশ প্রেসিডেন্টের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। ২০১৪ সাল থেকে এখানকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে রুশ বাহিনী। বর্তমানে দোনেৎস্কের তিন ভাগের এক ভাগ রাশিয়ার হাতে, আর সমগ্র ইউক্রেনের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ তাদের দখলে রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও কথা বলেছেন। আলোচনায় তিনি জানিয়ে দেন, যদি কিয়েভ দোনেৎস্ক পুরোটা ছাড়তে রাজি হয়, তবে রাশিয়া যুদ্ধের বেশির ভাগ জায়গায় থামবে—এমন শর্ত দিয়েছেন পুতিন। তবে জেলেনস্কি এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে বৈঠক সম্পর্কে জানাশোনা একটি সূত্র।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লিখেছেন, সবার পক্ষ থেকে এটা নির্ধারণ করা হয়েছে যে ভয়াবহ এ যুদ্ধ শেষ করার সর্বোত্তম উপায় হলো সরাসরি শান্তিচুক্তি। এটি যুদ্ধকে থামাবে, কেবলমাত্র একটি যুদ্ধবিরতি নয়, যা সাধারণত বেশিদিন স্থায়ী হয় না।
অন্যদিকে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, রাশিয়ার সদিচ্ছা না থাকলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। তিনি লিখেছেন, “যুদ্ধ বন্ধ করার একটি মূল উপাদান হলো হত্যা বন্ধ করা।” তিনি আরও জানান, আগামীকাল সোমবার তিনি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে তুমুল বিতণ্ডা হয়, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সেদিন জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে এবার ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি পুতিন ও জেলেনস্কিকে নিয়ে একসঙ্গে বসতে পারবেন।
ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা। তারা ইউক্রেনের পাশে থাকার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেছেন, আগামীকাল হোয়াইট হাউসের বৈঠকে জেলেনস্কির পাশাপাশি ইউরোপীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। তবে ঠিক কোন কোন ইউরোপীয় নেতা অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত। দুই পক্ষের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাজারো সাধারণ ইউক্রেনীয় নাগরিকও রয়েছেন।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au