ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- চীন সীমান্তের কাছে গোপনে একটি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি নির্মাণ করেছে উত্তর কোরিয়া। সেখানে আধুনিক কৌশলগত অস্ত্র মজুদ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর পিয়ংগান প্রদেশের সিনপুং এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি চীন সীমান্ত থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে। এখানে ছয় থেকে ৯টি পারমাণবিক আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) এবং মোবাইল লঞ্চার রাখা থাকতে পারে। সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেগুলো বিশেষ ওয়ারহেড ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত করে পূর্বনির্ধারিত স্থান থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব।
ঘাঁটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে এবং ২০১৪ সালের মধ্যে এটি কার্যকর হয়। এরপর থেকে কমপ্লেক্সটি নিয়মিত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার অনেকের ধারণার চেয়ে বড় এবং টিকে থাকার ক্ষমতাও বেশি। দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জন করায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বপ্রস্তুত হামলার বিকল্পও জটিল হয়ে পড়েছে।
চীন সীমান্তের কাছে অবস্থান করায় ঘাঁটিটি সামরিক হামলা থেকে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষিত। এর ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের জন্য নতুন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে সম্প্রতি কিম জং উন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্রুত সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে, যাকে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, তবে সেই বৈঠকেও কিমকে তার কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি করাতে ব্যর্থ হন। এরপর পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে এবং রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিম জং উন বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে শত্রুদের ভয় দেখানো, আর এই সক্ষমতা শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমিত থাকবে না, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তা প্রমাণ করা হবে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ