বিশ্ব

নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৬, কারণ জানালো কর্তৃপক্ষ

  • 6:30 pm - September 07, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৭ বার
নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত ৬, বেসমেন্টের পানিতে দুর্বল পিলার।ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পুরনো ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার ভবনটির বেসমেন্টে সংস্কারকাজ চলার সময় একটি মূল পিলারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং সেখানে সংস্কারকাজ চলছিল। বেসমেন্টে কাজ করার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ পিলার ভেঙে পড়ার পর মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে। এতে ভবনের ভেতরে থাকা লোকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।

কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেসমেন্টে পানি জমে যাওয়া এবং পুরনো অবকাঠামোর ওপর চলা সংস্কারকাজের চাপের কারণে ভবনটির পিলার দুর্বল হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ধরে বেসমেন্টে পানি জমে ছিল। এতে ভবনের ভিত্তি ও কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তাদের ধারণা।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সোমবার জানিয়েছেন, বেসমেন্টে জমে থাকা পানি এবং পুরনো ভবনে চলা সংস্কারকাজের সম্মিলিত চাপেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ১২ জনকে উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি ছয়জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দিল্লির মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা। তিনি জানান, ধসে পড়া ভবনের পাশেই আরও একটি প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হলে পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিও ভেঙে ফেলা হবে।

এদিকে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধসে পড়া পাঁচতলা ভবনটিতে একটি ছেলেদের হোস্টেল ছিল। ভবনটি প্রায় ৩০ বছর পুরনো এবং এটি জি+৪ কাঠামোর ছিল। পুনর্বাসন কলোনির মাত্র ৫৫ বর্গগজ জায়গার ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ওই জমিতে আগে শুধু জি+১ ভবন নির্মাণের অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখানে পাঁচতলা ভবন গড়ে ওঠে। ভবনটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে।

দুর্ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবন ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণ ও সংস্কারকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।

সুত্রঃ এনডিটিভি

এই শাখার আরও খবর

আইএসবিরোধী লড়াইয়ের পর সিরিয়ার নতুন ব্যবস্থায় জায়গা খুঁজছে কুর্দি নারী যোদ্ধারা

সিরিয়ার নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কুর্দি নারী যোদ্ধাদের সংগঠন উইমেন’স প্রোটেকশন ইউনিটস বা ওয়াইপিজে। সংগঠনটির কমান্ডার নওরুজ আহমেদ জানিয়েছেন,…

মিস ওয়ার্ল্ডে তৃতীয় হয়ে সাফল্য মালয়েশিয়াকে উৎসর্গ তানুসিয়ার

মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের সাফল্য মালয়েশিয়ার জনগণকে উৎসর্গ করেছেন দেশটির প্রতিযোগী তানুসিয়া চেট্টি। ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাংয়ে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে তৃতীয়…

নিজেদের স্বার্থেই রাশিয়ার তেল কেনে ভারত: রুশ রাষ্ট্রদূত

রাশিয়ার তেল ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেনে, রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে…

ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন পর জীবিত মিলল নিখোঁজ নারী

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ নামে এক নারীকে। তাকে মৃত ধরে নিয়ে…

যুদ্ধের নিয়ম বদলে গেছে: ইরানি অধ্যাপক

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও ইরানি জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরানের পক্ষ থেকে আরও বড় ধরনের পাল্টা জবাব আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের অধ্যাপক মোস্তাফা খোশচেশম।…

জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au