নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৬, কারণ জানালো কর্তৃপক্ষ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পুরনো ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার ভবনটির বেসমেন্টে সংস্কারকাজ…
সিরিয়ার নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কুর্দি নারী যোদ্ধাদের সংগঠন উইমেন’স প্রোটেকশন ইউনিটস বা ওয়াইপিজে। সংগঠনটির কমান্ডার নওরুজ আহমেদ জানিয়েছেন, তাদের দেড় হাজারের বেশি যোদ্ধাকে সেনাবাহিনীতে স্বতন্ত্র নারী ব্রিগেড বা ব্যাটালিয়ন হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে সিরীয় কর্তৃপক্ষ।
এক সাক্ষাৎকারে নওরুজ আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ইসলামিক স্টেট বা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই ও সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা রয়েছে ওয়াইপিজে সদস্যদের। তাই তাদের একটি স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সিরীয় কর্মকর্তারা এতে সম্মতি দেননি।
বর্তমানে ওয়াইপিজে সদস্যদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অভিযান বাহিনীতে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। নওরুজ আহমেদ জানান, সংগঠনটি তাদের যোদ্ধাদের একটি একক বাহিনী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চেয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তবে ওয়াইপিজের নেতাদের কাছে বিষয়টি শুধু চাকরি বা নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রশ্ন নয়। তারা চান, দীর্ঘদিন একসঙ্গে লড়াই করা নারী যোদ্ধাদের আলাদা করে বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে না দিয়ে একটি সংগঠিত নারী বাহিনী হিসেবে রাখা হোক।
কুর্দি যোদ্ধা হেভরিন জওয়ান বলেন, পুরুষ যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হলেও নারীদের জন্য জায়গা নেই বলা হলে তাদের স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের বঞ্চিত মনে হয়। তিনি বলেন, তারা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র হাতে নেননি, বরং বছরের পর বছর যুদ্ধ ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ওয়াইপিজে গঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস বা এসডিএফের সঙ্গে মিলে উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আইএসকে হটানোর অভিযানে অংশ নেয় সংগঠনটি। পুরোপুরি নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত বাহিনীটি আইএসবিরোধী যুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়।
তবে যুদ্ধের সেই ভূমিকা এখন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একক রাষ্ট্রীয় কমান্ডের অধীনে আনার প্রচেষ্টার সঙ্গে নতুন করে সংঘাত তৈরি করেছে। গত ২৫ আগস্ট এসডিএফের কমান্ডার মাজলুম আবদি ঘোষণা করেন, সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ব্রিগেডে একীভূত হওয়ার পর এসডিএফ আর স্বতন্ত্র সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না।
জানুয়ারির একীভূতকরণ চুক্তি অনুযায়ী, এসডিএফের সামরিক ও নিরাপত্তা সদস্যদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর ব্যক্তিগতভাবে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরেক কুর্দি নারী যোদ্ধা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওয়াইপিজে সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় নারীদের জন্য সিরিয়ার ভবিষ্যৎ সশস্ত্র প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী ধরনের ভূমিকা রাখা হবে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, ইউনিটের কাঠামো বা কমান্ড নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সেনাবাহিনীতে নারীদের কোনো জায়গা নেই, এমন বার্তা দেওয়া হলে বিষয়টি আরও বড় আকার ধারণ করে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। তবে কুর্দি সম্প্রচারমাধ্যম রুদাওকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুরেদ্দিন আল-বাবা বলেন, ওয়াইপিজের যোদ্ধাদের মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানানো হবে। তবে তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা তারা একক ইউনিট হিসেবে কাজ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এর আগে ওয়াইপিজে সদস্যদের ট্যুরিস্ট পুলিশে যুক্ত করার একটি প্রস্তাবও ছিল। তবে ওয়াইপিজের এক মুখপাত্র এমন প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
ওয়াইপিজের যোদ্ধা গক্সু আফরিন বলেন, নারীদের সবসময় দুর্বল হিসেবে দেখা হয়। তাদের শক্তি পুরুষ কিংবা বর্তমান রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং তারা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখতে চান।
কুর্দি এক কমান্ডার বলেছেন, সিরিয়ার সংবিধানে নারী যোদ্ধাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা নিশ্চিত করা উচিত। তার ভাষায়, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নারীরা কখনো অন্য কারও অপেক্ষায় ছিলেন না, বরং নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অভিযান বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ ওয়াইপিজের জন্য একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের কিছু সাংগঠনিক কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের সামরিক প্রশিক্ষণ কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারেন।
তবে দামেস্ক শেষ পর্যন্ত তাদের একটি সংগঠিত নারী বাহিনী হিসেবে রাখার প্রস্তাবে কতটা সম্মতি দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াইপিজের সদস্যরা বলছেন, তারা সিরিয়ার রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে থাকতেও চান না। তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একীভূত হওয়ার বিনিময়ে একটি সংগঠিত নারী বাহিনী হিসেবে তাদের অস্তিত্ব হারাতেও রাজি নন।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au