আটক কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমা আদালত তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার স্বরূপনগর উপজেলার বিথারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় তিনি ধরা পড়েন। বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর তাকে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুজ্জামান স্বীকার করেছেন যে তিনি বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ঢুকেছেন।
রোববার স্বরূপনগর থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪এ(খ) ধারা ও ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট অ্যাক্টের ১২ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর—স্বরূপনগর পিএস কেস নং-৫৬৬/২০২৫।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী আরিফুজ্জামানের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার সাহিপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আফসার আলী আহমদ। তিনি রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আরিফুজ্জামান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। ওই ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তা হিসেবে আরিফুজ্জামানের নাম মামলার আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
ঘটনার দিন বিকেল আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালানো হয়। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হলেও আবু সাঈদ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন প্রায় ৫০ ফুট দূর থেকে পুলিশের ছররা গুলিতে তিনি আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন এসিপি আরিফুজ্জামান।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে গা-ঢাকা দেওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তার নতুন করে আলোচনায় এনেছে আবু সাঈদ হত্যা মামলা।