এভারগ্রিন কারখানা বন্ধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ সেপ্টেম্বর- নীলফামারীর উত্তরা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (ইপিজেড) এভারগ্রিন কারখানা বন্ধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় আরও পাঁচজন নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত শ্রমিকের নাম হাবিব। তিনি ইপিজেডের ইকু প্লাস্টিক কারখানার কর্মী এবং কাজিরহাট এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, এভারগ্রিন কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। এরই মধ্যে সোমবার কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা ইপিজেডের মূলগেটে অবস্থান নিয়ে অন্য শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গেলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাবিব গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছিলেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিনা উসকানিতে হামলা চালায় এবং নারী শ্রমিকসহ অনেককে মারধর করে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করেছে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তানভীরুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাসপাতালে মোট ছয়জন আহত শ্রমিককে আনা হয়। এর মধ্যে হাবিবকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৫৬ বিজিবি নীলফামারীর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস.এম বদরুদ্দোজা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইপিজেডের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সব কারখানা বন্ধ আছে। নতুন কোনো সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উত্তরা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ইপিজেড ও এভারগ্রিন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক চলমান রয়েছে।