জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ৩ সেপ্টেম্বর- চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে একটি হট মাইকে ধরা পড়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কথোপকথন। সেখানে জৈবপ্রযুক্তির অগ্রগতি অঙ্গ প্রতিস্থাপন, আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি এবং এমনকি অমরত্বের সম্ভাবনা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন পুতিন।
পুতিনের বক্তব্য রুশ-মান্দারিন দোভাষীর মাধ্যমে শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছানো হয়। সরাসরি পুতিনের কণ্ঠ শোনা না গেলেও রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সরাসরি সম্প্রচারে কথোপকথনটি ধরা পড়ে। শি জিনপিং পুতিনের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও দীর্ঘায়ু প্রসঙ্গে মন্তব্য শুনে হেসে ওঠেন।
এ সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। একসঙ্গে তিন নেতার প্রকাশ্যে হাঁটার এমন মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত বিরল, যা গণমাধ্যম ও দর্শকদের কাছ থেকে বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। অনুষ্ঠানে লাওস, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, বেলারুশ ও সার্বিয়াসহ ২০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নেন।
দোভাষীর মাধ্যমে শোনা যায়, পুতিন বলেছেন, “জৈবপ্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নতির ফলে মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বেড়ে যাবে। এতে আমরা আরও তরুণভাবে বাঁচতে পারব, এমনকি অমরত্বও অর্জন করা যেতে পারে।” এ জবাবে শি নিজ কণ্ঠে বলেন, “এই শতকে মানুষের ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।”
তিন নেতারই জনসমক্ষে উপস্থিতি সাধারণত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং হঠাৎ করে এমন অনানুষ্ঠানিক আলাপ শোনা প্রায় অসম্ভব। এবারের ঘটনা তাই বিশ্ববাসীর কাছে এক বিরল ঝলক হয়ে ধরা দেয়। তবে পুরো কথোপকথন সম্প্রচারিত হয়নি।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচারে দৃশ্যটির ওপর সংগীত ও প্রস্তুত বর্ণনা জুড়ে দেওয়া হয়, ফলে দেশীয় দর্শকরা আসল আলোচনার কিছুই শুনতে পাননি। তবে চীনের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা ভাষাভাষীরা প্রশ্ন তুলেছেন, সত্যিই পুতিন এমন মন্তব্য করেছেন কি না, এবং তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানাচ্ছেন।
চীন অধ্যয়নবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতিহাসজুড়ে স্বৈরশাসকেরা অমরত্বের খোঁজ করেছেন, আর চীনে এই প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সিডনির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফেং চংই বলেন, “স্বৈরশাসকরা চিরজীবনের আকাঙ্ক্ষায় কিছুতেই থেমে থাকেন না।”
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চেন মিংলু মন্তব্য করেন, “এটি এক বিরল মুহূর্ত, যেখানে বাইরের বিশ্ব ক্ষমতা, মৃত্যু ও স্বাস্থ্য নিয়ে নেতাদের মনোভাবের ঝলক দেখতে পেল।” তিনি আরও বলেন, শি, পুতিন ও কিমের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ব্যবস্থাগুলো অস্বচ্ছ, যেখানে সাধারণ মানুষের সরাসরি এমন কথোপকথন শোনার সুযোগ নেই।
চেনের মতে, চীনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে জাতীয় পুনর্জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত করে দেখা হয়।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au