শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের একই দল
মেলবোর্ন, ২ মে- বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ সামনে রেখে দলে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তৃতীয় ও…
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল-এর গবেষণায় এই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে প্রখ্যাত সাময়িকী সায়েন্স-এ। এতে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় বেশি সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম।
বোস্টন-এর একটি হাসপাতালে ৭৬ জন রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। একই তথ্য দিয়ে এআই এবং চিকিৎসকদের পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, এআই প্রায় ৬৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পেরেছে। অন্যদিকে চিকিৎসকদের সাফল্যের হার ছিল ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ।
বিশেষ করে সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এআই উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দেখিয়েছে। ওপেনএআই-এর উন্নত মডেল ব্যবহার করে আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলে এআই-এর নির্ভুলতা বেড়ে ৮২ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৭০ থেকে ৭৯ শতাংশ।
শুধু রোগ নির্ণয় নয়, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণেও এআই এগিয়ে রয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপনা ও গুরুতর রোগীর সেবায় এআই ৮৯ শতাংশ স্কোর করেছে, যেখানে চিকিৎসকদের স্কোর ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ।
তবে গবেষকরা বলছেন, এআই এখনই চিকিৎসকদের বিকল্প নয়। কারণ বাস্তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা, আচরণ ও অন্যান্য সূক্ষ্ম লক্ষণ পর্যবেক্ষণের যে অভিজ্ঞতা চিকিৎসকদের থাকে, তা এআই-এর ক্ষেত্রে এখনো সীমিত। গবেষণার প্রধান লেখক অর্জুন মানরাই বলেন, এই প্রযুক্তি চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপন নয়, বরং চিকিৎসাব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
একই মত দিয়েছেন ড. অ্যাডাম রডম্যান, যিনি মনে করেন ভবিষ্যতে এআই চিকিৎসকদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে এবং রোগীর সেবায় একটি নতুন কাঠামো গড়ে উঠবে।
তবে এআই ব্যবহারে উদ্বেগও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার সেন্টার ফর মেডিক্যাল ইনফরমেটিক্স-এর অধ্যাপক ইউয়েন হ্যারিসন বলেন, এআই এখন চিকিৎসকদের জন্য কার্যকর ‘সেকেন্ড ওপিনিয়ন’ হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড-এর গবেষক ড. ওয়েই জিং সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা চিকিৎসকদের স্বতন্ত্র চিন্তাশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সব মিলিয়ে, চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে মানবিক বিচার ও অভিজ্ঞতার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবেই এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au