জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ৪ সেপ্টেম্বর- পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে একটি বৈদ্যুতিক স্ট্রিটকার (ট্রাম) লাইনচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।
বুধবার বিকেলে(বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে)দুর্ঘটনাটি ঘটে লিসবনের কেন্দ্রস্থলের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে ট্রামটি লাইনচ্যুত হলে প্রচণ্ড শব্দ হয় এবং ধুলার মেঘ চারপাশ ঢেকে ফেলে। অনেকে আতঙ্কে দৌড়ে পালান, আবার অনেকে আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, লিসবনের বিখ্যাত উজ্জ্বল হলুদ রঙের ট্রামটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে এবং চারপাশে দমকল কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “এটি এমন একটি দুর্ঘটনা, যা ঘটার কথা ছিল না। লিসবন আজ শোকে আচ্ছন্ন। আমাদের শহরের জন্য এটি এক ট্র্যাজিক মুহূর্ত।” তবে তিনি শহরের অন্যান্য ফানিকুলার (উঁচু-নিচু এলাকায় চলাচলের জন্য বিশেষ ধরনের ট্রাম) নিরাপদ কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দেননি।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসা গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনাকে “দুর্ভাগ্যজনক ট্র্যাজেডি” বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ পর্তুগিজ ভাষায় শোকবার্তা পাঠান।

নিহত ও আহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। ছবিঃ এপি
পর্তুগিজ সরকার জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হলে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রামটি ছিল এলিভাদর দা গ্লোরিয়া নামের ফানিকুলার, যা লিসবনের কেন্দ্রস্থল রেস্তোরাদোরেস এলাকার হোটেল, রেলস্টেশন, দোকানপাট ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে শহরের অন্যতম ব্যস্ত নাইটলাইফ কেন্দ্র বাইরু আল্তু–কে সংযুক্ত করে। খাড়া উঁচু-নিচু পথের লিসবনে বেশ কয়েকটি ফানিকুলার ও পুরনো ট্রাম রয়েছে, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয়।
প্রতিটি ক্যারেজে ৪০ জনেরও বেশি যাত্রী বসা ও দাঁড়ানো অবস্থায় ভ্রমণ করতে পারেন। তবে এ ধরনের পুরোনো ট্রামে সিটবেল্ট নেই। গত বছর লিসবনে প্রায় ৮৫ লাখ পর্যটক এসেছিলেন এবং এ ট্রাম সিস্টেম ছিল তাঁদের জন্য বড় আকর্ষণ। এর আগেও, ২০১৮ সালে একই ট্রাম লাইনচ্যুত হয়েছিল, যদিও তখন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শহরের গণপরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কারিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তাদের সব ধরনের জরুরি সম্পদ কাজে লাগানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তবে কী কারণে ট্রামটি লাইনচ্যুত হলো, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখনো কোনো তথ্য দেয়নি।
সুত্রঃ নাইন নিউজ ও এপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au