তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- সুদানে সরকারি সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার যুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। রবিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক সেনা ঘাঁটি ও বেসামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে রাজধানীর বাইরে বড় ধরনের অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
সেনা সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট নাইল রাজ্যে সেনাবাহিনীর ১৮তম ডিভিশনের সদর দপ্তর ও জ্বালানি মজুদ কেন্দ্র এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল। নীল নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত সেনানিয়ন্ত্রিত শহর কস্তির পূর্বদিকে এ হামলা চালানো হয়। এছাড়া কস্তির দক্ষিণ-পূর্বে কেনানা বিমানঘাঁটি ও বিমানবন্দর, এবং শহরের পূর্বদিকে অবস্থিত উম দাবাকির বিদ্যুৎকেন্দ্রও ড্রোন হামলার শিকার হয়।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণও জানা যায়নি। তবে কস্তির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার সময় একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এ ছাড়াও শনিবার ভোরে উত্তর কোরদোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ শহরের বিভিন্ন স্থাপনায়ও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায় আধাসামরিক বাহিনী। সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন প্রতিহত করেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগেও আরএসএফ খার্তুমসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগার, অস্ত্র কারখানা ও বিমানঘাঁটিতে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পরে তাদের তথাকথিত ‘তাসিস প্রশাসন’ সেই হামলার দায় স্বীকার করে এবং একে “নির্ভুল ও সফল বিমান হামলা” বলে আখ্যা দেয়।
মার্চ মাসে সেনাবাহিনী রাজধানী পুনর্দখল করার পর থেকে আরএসএফ ড্রোন হামলার ওপর বেশি নির্ভর করছে। এসব হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে লাখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।
অবিরাম যুদ্ধের মধ্যেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শনিবার সুদানি সরকার যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই প্রস্তাবে মানবিক যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ধাপে ধাপে বেসামরিক শাসনে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত না করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
সরকারের এই প্রত্যাখ্যানের ফলে নতুন করে শান্তি সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত সুদানকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।
উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ও দক্ষিণের বড় একটি অংশ ও পশ্চিম দারফুরের প্রায় পুরোটাই আরএসএফের দখলে।
যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, চলমান হামলা ও অচলাবস্থা আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে দেশটিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au