পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন,১ জুলাই- বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ১ হাজার ১০০ কেজি আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই উপহারের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা-র জন্যও বিশেষভাবে আম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুই রাজ্যের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছেও এই আম বিতরণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমগুলো ভারতে পাঠানো হয়। পরে সেগুলো কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাস এবং আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঠানো উপহারের মধ্যে দেশের জনপ্রিয় দুই জাতের আম্রপালি ও হাড়িভাঙ্গা আম রয়েছে। কলকাতার উপদূতাবাসের জন্য ১০০টি কার্টনে পাঁচ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি এবং আগরতলার সহকারী হাইকমিশনের জন্য ১২০টি কার্টনে পাঁচ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা-র জন্য পৃথকভাবে ১০০ কেজি করে আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট আম পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনৈতিক মহল এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে।

ছবি : সংগৃহীত
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাঠানো আম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন বিভাগের উপপরিচালক আবু তালহা। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কোয়ারেন্টাইন ও রপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আমের চালান ভারতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পাঠানো আম আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের নির্ধারিত ব্যক্তিদের কাছে উপহার হিসেবে আম পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রতি বছর মৌসুমে প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও কূটনৈতিক মিশনে বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের আম পাঠানোর একটি ঐতিহ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের শুভেচ্ছা উপহার দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।