মেলবোর্ন,১ জুলাই- আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস, নকল ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কঠোর নজরদারি এবং ৩৫ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা।
সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি ঢাকায়। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্র বিতরণ ও সংরক্ষণ, উত্তরপত্রের নিরাপত্তা, অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের নিয়ম, শৌচাগার তল্লাশি এবং কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তাসহ ৩৫টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এছাড়া গুজব ও প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, কোনোভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলে ওই দিনের পরীক্ষা সারা দেশে স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের ঘটনা ধরা পড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই নয়, দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, বোর্ডটির অধীনে আটটি জেলার ২০৮টি কেন্দ্রে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণের সময়সূচিও প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৫ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে ফরম পূরণ করা যাবে। নিয়মিত, অনিয়মিত, গ্রেড উন্নয়ন এবং নির্ধারিত শিক্ষাবর্ষের প্রমোটেড শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এ বছরের এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বা ভুয়া তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার।