তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সম্পদ দখলের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সোমবার সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করার চেষ্টা করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেকোনো রাষ্ট্রকে শতকের শেষ পর্যন্ত “তাড়িয়ে বেড়াবে” রাশিয়া। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের যেসব দেশ এ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকবে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
মেদভেদেভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাশিয়া সম্ভাব্য সব উপায়ে—আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আদালতে কিংবা আদালতের বাইরেও—ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তাঁর ভাষায়, “রাশিয়ার সম্পদ দখল মানেই পশ্চিমাদের চুরি।”
সম্প্রতি পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার নতুন উপায় হিসেবে রাশিয়ার জব্দ করা শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করতে চাইছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেনও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের জন্য এ অর্থ ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোর খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাশিয়ার অর্থ ইউক্রেনকে ক্ষতিপূরণ ঋণ দিতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে ইইউ।
২০২২ সালে ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করে এবং রাশিয়ার ৩০০–৩৫০ বিলিয়ন ডলার জব্দ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ইউরোপে আটকে আছে।
রাশিয়ার অভিযোগ, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বন্ড ও মুদ্রার ওপর আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ ইউক্রেনে চালিয়েছে মস্কো, তাই জোর করেই হলেও রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দের নজির বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে পশ্চিমাদের বন্ড ও বিনিয়োগ থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
মেদভেদেভ চলতি মাসের শুরুতে আরও বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের অতিরিক্ত ভূখণ্ড দখল করবে এবং যুক্তরাজ্যের সম্পদ জব্দের পথেও হাঁটবে। এর আগে লন্ডন জানিয়েছিল, রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ থেকে সংগৃহীত প্রায় ১৩০ কোটি ডলার তারা ইউক্রেনের অস্ত্র কেনায় ব্যয় করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিতে প্রায় ২৮৫ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ করেছে। মস্কোর হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, সম্পদ দখল হলে এই বিপুল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় রুশ ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়। তবে বুখারেস্টে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বলছে, ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির লিপায়েভ এটিকে ইউক্রেনের “উসকানি” বলে দাবি করেছেন।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au