তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেমর- দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার পর নতুন এক রাজনৈতিক পথে হাঁটছে নেপাল। গত সপ্তাহের শুরুতে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে মূলত জেনারেশন জেডের তরুণরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী খাদগপ্রসাদ শর্মা ওলি।
এরপর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো নারী হিমালয় রাষ্ট্রটির নেতৃত্বে আসেন। তার দায়িত্ব হলো নতুন সংসদ নির্বাচন আয়োজন এবং ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া।
সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
গত সপ্তাহের এই অস্থিরতায় দেশজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বিক্ষোভকারীরা সুপ্রিম কোর্ট, সংসদ ভবন, পুলিশ ফাঁড়ি, রাজনীতিবিদদের বাড়িঘর ও বহু বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে। শনিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৫১। আগুনে পুড়ে যাওয়া শপিং মল, বাসাবাড়ি ও সরকারি ভবন থেকে উদ্ধার অভিযানে নতুন লাশ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ১১৩ জন।
কার্কির প্রতিশ্রুতি
রোববার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে সুশীলা কার্কি বলেন, ছয় মাসের বেশি তিনি এই পদে থাকবেন না। নিহতদের পরিবারকে সরকার এক মিলিয়ন রুপি (প্রায় ১৭ হাজার ডলার) ক্ষতিপূরণ দেবে এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
কার্কি নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি এমন এক ভবনে কাজ শুরু করেছেন, যা বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। “এখন আমাদের ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণে কাজ করতে হবে,” সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এমনটাই বলেন তিনি।
অর্থনীতির ওপর আঘাত
এই সহিংসতায় নেপালের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে। হোটেল মালিক, গাড়ি বিক্রেতা ও বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর হিসাবে দেখা গেছে, রাতারাতি অন্তত ১০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।
হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেপাল জানিয়েছে, কেবল পর্যটন খাতেই ২৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি (প্রায় ২৭৫ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হয়েছে। কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক দরবার স্কয়ার, হিমালয় ভ্রমণের জনপ্রিয় শহর পোখরার মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। দেশজুড়ে দেখা যাচ্ছে পোড়া হোটেল, কালো ধোঁয়ায় দগ্ধ ভবন আর জ্বলে যাওয়া গাড়ির দৃশ্য।
কেবল একজন নেতাকে অপসারণ নয়
নেপালের বিক্ষোভকারীরা শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীকে সরানোর দাবি তুলেননি। তারা চেয়েছেন বহু আলোচিত দুর্নীতির ঘটনায় বিস্তৃত তদন্ত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক অভিজাতরা রাষ্ট্রকে ফাঁপা করে তুলেছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে এয়ারবাস এ৩৩০ চুক্তি, যেখানে নেপাল এয়ারলাইন্স দুইটি প্রশস্ত বডির বিমান অস্বাভাবিক মূল্যে কিনেছিল অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায়।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au