দক্ষিণ চীন সাগরে চীন-ফিলিপাইন জাহাজের সংঘর্ষ।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবোরো শোলের কাছে চীন ও ফিলিপাইনের জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সামুদ্রিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা দুই দেশের বিরোধ আরও বাড়িয়ে তুলল।
মঙ্গলবার উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। চীনের দাবি, ফিলিপাইনের একটি জাহাজ তাদের কোস্ট গার্ডের নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছে। তবে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানায়, চীনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে তাদের একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন সদস্য আহত হয়েছেন। আহত সদস্য চীনের জলকামানের আঘাতে ভেঙে যাওয়া কাচের কারণে জখম হন।
চীনের কোস্ট গার্ড মুখপাত্র গ্যান ইউ স্বীকার করেন, ফিলিপাইনের প্রায় ১০টি নৌকা সেখানে প্রবেশ করলে তারা জলকামান ব্যবহার করে। তাঁর ভাষায়, এসব নৌকা ‘অবৈধভাবে’ এলাকায় প্রবেশ করেছিল। গ্যান ইউ আরও বলেন, “আমরা আইনসম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি, যার মধ্যে মৌখিক সতর্কতা ও চলাচলের পথ সীমিত করা অন্তর্ভুক্ত।”
অন্যদিকে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড দাবি করেছে, তারা শোলে পৌঁছে ৩৫টিরও বেশি মাছ ধরার নৌকায় সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তখন ৯টি চীনা জাহাজ তাদের আগ্রাসনের শিকার করে। ফিলিপাইনের মেরিটাইম কাউন্সিল এ ঘটনায় চীনের বক্তব্যকে ‘ভুয়া তথ্য ও প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছে।
এর আগে মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে বেইজিং ঘোষণা দিয়েছিল, স্কারবোরো শোলকে প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে। চীনের মতে, এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নেওয়া হয়েছে। তবে ফিলিপাইন ও তাদের মিত্ররা বলছে, এটি আসলে চীনের সম্প্রসারণবাদী পদক্ষেপ। ফিলিপাইন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ’ জানাবে বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাও চীনের বিরোধিতা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে চীনের পরিকল্পনাকে ‘অস্থিতিশীলতামূলক’ আখ্যা দেন। ফিলিপাইনে অবস্থিত কানাডার দূতাবাসও জানায়, পরিবেশ সুরক্ষার অজুহাতে চীন শোল দখলের চেষ্টা করছে।
চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর নিজেদের মালিকানা দাবি করে। কিন্তু ২০১৬ সালে হেগের স্থায়ী সালিশ আদালত রায় দিয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে বেইজিংয়ের এ দাবি অবৈধ। চীন সেই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া চলার সময় চীন সতর্ক করে দিয়েছিল—“পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে।”
সূত্রঃ আল জাজিরা