সৌদি আরবে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের
সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে তেল স্থাপনা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এক দিনে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে…
সজীব ওয়াজেদ জয় :
রহস্যজনক মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ সৌরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার ওপর নেমে আসা ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন, যন্ত্রণা ও দুর্ভোগের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন। এর এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট, তুরস্কের নাগরিক ও গুজববাজ সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের ‘আমার দেশ’ নামের সংবাদপত্র তাকে কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে।
সেই পডকাস্টে প্রয়াত এই পদকপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা যুক্তি দিয়ে ওই হাস্যকর অভিযোগ শুধু খণ্ডনই করেননি, বরং ‘আমার দেশ’-সমর্থিত অপপ্রচার কীভাবে তার পেশাগত জীবন ধ্বংস করেছে এবং জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে, তা-ও ব্যাখ্যা করেছেন।
এই পডকাস্টে তিনি নিজের জীবন নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে প্রায়ই গোপনীয়তার আড়ালে থাকা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে আনেন। তিনি বহুল আলোচিত মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ইউনূসের শাসনামলে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে একাধিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। যুদ্ধবিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি নতুন যুদ্ধবিমান কেনার নীতির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ইউনূসের শাসনামলে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া এই ক্রয়নীতি পরবর্তীতে বিএনপি অনুমোদন দিয়েছে।
কিন্তু তার আশঙ্কা নিরসনে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার পেছনে যাদের ভূমিকা ছিল, সেই মাহমুদুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাউকেই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়নি। ইউনূসের শাসনামলে তার পাসপোর্টও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সৌরি ও পরিবারের সদস্যরা ‘মেটিক্যুলাসলি ডিজাইনড’ এই আন্দোলনকে সমর্থন এবং গতিশীল করতে সাহায্য করেছিল। অথচ ক্ষমতা দখল করার পর তাকেই চাকরিচ্যুত করে ইউনুস সরকার।
এখন তার আকস্মিক মৃত্যুর পরপর জামায়াতের কর্মীদেরসহ এই প্রচারগোষ্ঠী আরও জোরেশোরে সেই অপপ্রচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করেছে, মৃত্যুর আগে যে অভিযোগ ওই কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ওই কর্মকর্তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগগুলো পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার প্রাণপণ চেষ্টার পেছনে উদ্দেশ্য স্পষ্টতই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের পথ রুদ্ধ করা, আওয়ামী লীগকে আরও হেয় করা এবং মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তার চাকরি ও জীবন ওলটপালট করে দেওয়ার জন্য দায়ী মাহমুদুর রহমান গং-এর দায়মুক্তি নিশ্চিত করা।
‘আমার দেশ’-এর সম্পাদক এবং ওই কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যুর আগে ও পরে যারা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তই কেবল প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে পারে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরেও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার মৃত্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সেই বানোয়াট কাহিনিগুলোকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা মাহমুদুর রহমান ও সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকারের অভ্যন্তরে তার মিত্রদের নৃশংস চেহারা উন্মোচিত করেছে। তাদের এই ঘৃণ্য অপতৎপরতা শোকাহত পরিবারের সদস্যদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে। লেখাটির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au