বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান
বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করেছে টোকিও।…
অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নাভিদ আকরামের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ থাকা দণ্ডিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্য আইজ্যাক এল মাতারি আগামী রোববার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর মুক্তির কথা রয়েছে। তবে মুক্তির পর তাঁর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশ।
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতারির আটকাদেশ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করেনি। কেন এমন আবেদন করা হয়নি, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেডারেল আদালতে চলমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তারা বলেছে, এ পর্যায়ে মামলার আইনি পরামর্শ বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
এদিকে, মাতারির মুক্তির পর তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ আরোপের আবেদন করেছে এএফপি। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করলে সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য তাঁর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা সম্ভব হবে। রোববার তাঁর নির্ধারিত মুক্তির আগেই এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আইজ্যাক এল মাতারি গত পাঁচ বছর নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাব্বো শহরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ম্যাককুয়ারি সংশোধনাগারে ছিলেন। ২০২১ সালে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ব্লু মাউন্টেন এলাকায় ইসলামিক স্টেটের একটি শক্ত ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ ছাড়া সিডনির সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা এবং আফগানিস্তানে গিয়ে আইএস যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন তিনি।
২০১৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের সময় মাতারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই তদন্তের সূত্র ধরে বন্ডাই বিচ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নাভিদ আকরামও গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন। অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএস-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে ২০১৯ সালে আকরামকে তদন্তের আওতায় এনেছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও। পরবর্তী সময়েও তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা আইএস-সমর্থক হিসেবে দণ্ডিত ইউসুফ উওয়েনাতের মাধ্যমেও আকরাম ও মাতারির মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন বলে জানা গেছে। মাতারির সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া রাদওয়ান দাক্কাকও পরে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে কারাদণ্ড পান। মুক্তির পর তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রতিদিন পুলিশের কাছে হাজিরা দেওয়া, যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং মাতারিসহ নির্দিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ না করার শর্ত ছিল। তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ পর এসব শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২১ সালের অক্টোবরে মাতারির সাজা ঘোষণার সময় বিচারপতি পিটার গার্লিং বলেছিলেন, তাঁর আলোচিত হামলাগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত ছিল। তিনি অস্ত্র সংগ্রহ করেননি, অনুসারী নিয়োগ করেননি কিংবা হামলা চালানোর মতো বিস্তারিত পরিকল্পনাও তৈরি করেননি।
এ ছাড়া ২০২২ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম তদারককারী কমিশন এক প্রতিবেদনে জানায়, মাতারিকে কেন্দ্র করে গোপন তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিল।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au