১৬ সেপ্টেম্বর দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সাথে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- কাতারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার ইসরায়েল সফর শেষে হঠাৎ দোহা গিয়ে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠক শেষে রুবিও তাৎক্ষণিকভাবে দোহা ত্যাগ করেন।
রুবিওর এ সফরের পটভূমি তৈরি হয় সম্প্রতি দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায়। সেই হামলায় হামাসের আলোচকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যা নিয়ে উপসাগরীয় মিত্র কাতারে প্রবল ক্ষোভ দেখা দেয়। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠায় ওয়াশিংটন দ্রুত কাতারকে আশ্বস্ত করতে চায়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গাজা যুদ্ধের অবসান এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে কাতারের ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।” তিনি আরও জানান, কাতারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অপরিবর্তিত থাকবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে স্বাগত জানায় দোহা। তিনি বলেন, “এই হামলা আমাদের ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।”
রুবিওও বলেছেন, পৃথিবীতে যদি কোনো দেশ থেকে আলোচনার মাধ্যমে গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে, তবে সেটি কাতারই। তবে ইসরায়েল মঙ্গলবার ভোরে গাজা সিটিতে স্থল হামলা শুরু করায় নতুন মধ্যস্থতার সুযোগ কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে।
দোহা সফরের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল কাতারকে আশ্বস্ত করা, যেহেতু ইসরায়েলি হামলা এ উপসাগরীয় আমিরাতের প্রতি প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করেছে। এর আগে দোহায় অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাব ব্যবহার করে ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে কাতারে আর হামলা হবে না। তবে রুবিও ইসরায়েল সফরের সময় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। নেতানিয়াহু অবশ্য দাবি করেছেন, দোহা হামলার দায় তার সরকার নিচ্ছে, কারণ তাদের মতে “সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।”
কাতার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা সেন্ট্রাল কমান্ডের সামনের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। গ্যাসসমৃদ্ধ এই আমিরাতকে যুক্তরাষ্ট্র প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
গত এক দশক ধরে হামাসের সঙ্গে আলোচনায় কাতারের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েরই প্রত্যাশিত ছিল। ২০১২ সালে মার্কিন আশীর্বাদে হামাসের রাজনৈতিক দপ্তর কাতারে স্থাপন করা হয়। এমনকি গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্যে কাতারের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার হামাসে স্থানান্তরের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।
সূত্রঃ এএফপি