তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম বেড়ে চলেছে। অনেকের মতে, এটি চীনের প্রভাব মোকাবিলার অংশ হতে পারে। তবে এর অবস্থান, পরিধি ও সময় ভারতকেও চিন্তিত করছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস পরিবহন বিমান অবতরণ করেছে। এর সঙ্গে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৩’ নামে চার দিনের যৌথ মহড়া, যেখানে অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনী। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৫’ মহড়া। যুক্তরাষ্ট্রের এমন ধারাবাহিক সামরিক উপস্থিতি ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লির নজরে এসেছে।
মাঠপর্যায়ে কী হচ্ছে
সি-১৩০ জে সাধারণত জাপানের ইয়োকোটা ঘাঁটিতে অবস্থান করে। এবার চট্টগ্রামে এটি যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি সি-১৩০ জে বিমান এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টরের সঙ্গে। মহড়ায় অংশ নিচ্ছে মোট ২৪২ জন, এর মধ্যে ১৫০ জন বাংলাদেশ থেকে এবং ৯২ জন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মহড়াটি হচ্ছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটিতে।

বাংলাদেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে সম্প্রতি মার্কিন সামরিক তৎপরতার বৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ‘অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল’ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চলছে। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি জোরদার করা। ঢাকায় মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন মহড়াটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, একই এলাকায় আরেকটি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ মহড়ার পরিকল্পনাও চলছে। কয়েকজন মার্কিন সেনা ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছেন, যদিও তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্রম স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সামরিক সম্পর্কের পটভূমি
এ বছরের জুলাইয়ে সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৫’ মহড়া হয়েছিল। এতে অংশ নেয় বাংলাদেশের প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড, যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড এবং নেভাদা ন্যাশনাল গার্ড। মহড়ার মূল ফোকাস ছিল সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, জঙ্গলযুদ্ধ এবং আহত সৈন্যদের চিকিৎসা। প্রায় ১০০ জন এলিট বাংলাদেশি কমান্ডোর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল কয়েক ডজন মার্কিন সেনা।
এ ধরনের ঘন ঘন মহড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মার্কিন সেনাদের চট্টগ্রামে নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। সহিংস ছাত্র আন্দোলনে ৬০০ জনেরও বেশি নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি ভারতে পালিয়ে যান। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়।
ওয়াশিংটন অস্বীকার করলেও অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা মার্কিন স্বার্থে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছেড়ে দিতে অস্বীকার করায় যুক্তরাষ্ট্র তার পতনে ভূমিকা রেখেছিল। গত মাসে ঢাকার এক হোটেলে এক মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস অফিসারের রহস্যজনক মৃত্যু এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ সরাসরি দূতাবাসে হস্তান্তর ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। ফলে অনেকে মনে করছেন, বর্তমান মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিছক মহড়া নয়।
কেন ভারত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে
চট্টগ্রামের অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমারের কাছে। এখানে যে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ভারতের নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকদের মতে, বাইরের শক্তিগুলো বাংলাদেশকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ভারতের সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে, যেখানে আগে থেকেই বিদ্রোহ ও শরণার্থী সংকট বিদ্যমান।
একই সময়ে, মার্কিন পদক্ষেপগুলো চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পাল্টা ভারসাম্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে উপস্থিতি আরও গভীর করে, তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে বাধ্য হবে। এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও পরিবর্তন আসতে পারে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।
সুত্রঃ মানি কন্ট্রোল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au