তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান চীনের
মেলবোর্ন,২ জুলাই- তাইওয়ান ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যে বিরল ও ভয়াবহ সংক্রমণ প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (পিএএম) ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন মারা গেছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ জন। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিনা জর্জ সোমবার সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এই সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণু হলো নাইগ্লেরিয়া ফাওলেরি (Naegleria fowleri)—যা সাধারণভাবে পরিচিত ‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’ নামে। এটি পানিবাহিত এক ধরনের অ্যামিবা, যা অযত্নে রক্ষিত সুইমিং পুল, স্প্ল্যাশ প্যাড, ঝরনা এবং অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রে পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, এই জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করলে নাক দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এবং সেখানে সংক্রমণ ঘটিয়ে মস্তিষ্কের টিস্যু ধ্বংস করতে থাকে।
তথ্যমতে, একবার সংক্রমণ শুরু হলে রোগের অগ্রগতি অত্যন্ত দ্রুত হয় এবং মৃত্যুহার প্রায় শতভাগ। এ কারণেই একে বলা হয় ‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’।
কেরালা রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সংক্রমণ রোধে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন পানি ও পানিবাহিত বিনোদনকেন্দ্রগুলোর নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। স্থানীয় মানুষকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে পুকুর, নদী বা অপরিষ্কার পানিতে সাঁতার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
কেরালায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব এবারই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে প্রথমবার পিএএম রোগ শনাক্ত হয়েছিল। এরপর গত এক দশকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অল্প কয়েকজন আক্রান্তের ঘটনা ঘটলেও তা সীমিত ছিল। কিন্তু চলতি বছরে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইগ্লেরিয়া ফাওলেরি গরম ও অস্বাস্থ্যকর পানিতে দ্রুত বংশবিস্তার করে। তাই অযত্নে রাখা সুইমিং পুল বা স্প্ল্যাশ প্যাড সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি সীমিত।
জনসচেতনতার আহ্বান
কেরালা স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, নাগরিকদের এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা। তারা সতর্ক করে দিয়েছে—
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিনা জর্জ বলেন, “আমরা চাই না আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ুক। তবে জনগণকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। সামান্য অসতর্কতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au