কুয়েটের ৫ হিন্দু শিক্ষক-কর্মকর্তাকে বরখাস্ত
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ৫ হিন্দু শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন…
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক দাবি করে আসছেন, তিনি কেবলই ব্রিটিশ নাগরিক। কিন্তু প্রথম আলো ও ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসের যৌথ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টিউলিপ এখনও বাংলাদেশের ভোটার এবং তাঁর নামে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বাংলাদেশি পাসপোর্ট।
নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০১১ সালে টিউলিপের নামে জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়। এনআইডিতে তাঁর জন্মস্থান ঢাকা, পেশা ‘বেসরকারি চাকরি’, ভোটার এলাকা ধানমন্ডি (সড়ক ৩-৫) এবং ট্যাগ হিসেবে রয়েছে ‘মাইগ্রেটেড’ বা অভিবাসী। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে টিউলিপের বাংলাদেশি পাসপোর্টের নম্বরও সংরক্ষিত রয়েছে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন টিউলিপকে প্রথম বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করে। তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর। ২০১১ সালে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দ্বিতীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়। দ্বিতীয় পাসপোর্টে স্থায়ী ঠিকানা ধানমন্ডি ৫, সুধা সদন উল্লেখ করা হয়। জরুরি যোগাযোগে টিউলিপের চাচা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম লেখা থাকে।
টিউলিপ যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর মা-বাবা উভয়ই বাংলাদেশে জন্মেছেন। তাই তিনি দুই দেশের নাগরিকত্ব রাখতে পারেন। বাংলাদেশ সরকারের বিধি অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন না করলে নাগরিকত্ব বহাল থাকে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিউলিপ এখনও নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেননি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিক হওয়া আইনসঙ্গত, তবে টিউলিপ নিজেকে কেবল ব্রিটিশ দাবি করছেন।
টিউলিপের আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্টিফেনসন হারউডের মুখপাত্র বলেন, প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কুৎসা রটাচ্ছে। টিউলিপ কখনো বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি পাননি, এবং শৈশবের পর থেকে কোনো পাসপোর্টও রাখেননি।
২০১১ সালের জানুয়ারিতে টিউলিপ মা ও খালার সঙ্গে ঢাকায় সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেসময় জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নবায়নকৃত দ্বিতীয় পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এরপর ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যান। ২০১৩ সালে মস্কো সফরে খালার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে যোগ দেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি দমন কমিশন টিউলিপকে চারটি মামলায় আসামি করেছে। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
টিউলিপের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বাংলাদেশের এনআইডি–পাসপোর্ট বিষয়টি শুধু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। দ্য টাইমস ও প্রথম আলোর অনুসন্ধান প্রকাশ করছে যে, টিউলিপের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সম্পর্কিত নথিপত্রের তথ্য সরকারি দপ্তরে বৈধভাবে সংরক্ষিত আছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au