বিন্যান্সে সাইবার হামলায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দাবি
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোসম্পদ চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক…
ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। এতে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-সমর্থিত জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষের পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না।
দলভিত্তিক ফলাফলে লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। এ ছাড়া ইয়াশার ২১টি, বি’ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ও রা’আম ৮টি করে আসন পেয়েছে। ইসরায়েল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও ওতজমা ইহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ৬টি করে আসন।
এবারের নির্বাচনে যোগ্য ভোটারদের ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ উপস্থিতি। মোট ভোট পড়েছে ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫টি।
নির্বাচনে ইয়োয়াজ হেন্ডেলের ‘রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক’ দল ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পেলেও সংসদে আসন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। একইভাবে ওফের উইন্টারের ‘পিপল অব ইসরায়েল’ দল পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। হারেদি সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে গঠিত ‘হারেদি পাবলিক’ দল পেয়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। ফলে এসব দল কোনো আসন পায়নি।
এবারের নির্বাচনে আরব-নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল দুটি মোট ১৯টি আসন পেয়েছে। আগের পার্লামেন্টে দল দুটির আসন ছিল ১০টি। অর্থাৎ, এবার তাদের আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই আসনগুলো বিরোধী জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করতে পারত। তবে দ্য ডেমোক্র্যাটস ছাড়া বিরোধী জোটের অন্য জায়নবাদী দলগুলো আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতায় রাজি নয় বলে জানা গেছে। ফলে তাদের আসন বৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল রয়ে গেছে।
এদিকে নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাপক ভোট জালিয়াতির বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, বিশেষ করে কাতারের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়েও খবর সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভন জানিয়েছেন, তদন্তের কারণে প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তে জনসংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ করা হবে। ফল জমা পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দলগুলোর নেতারা সরকার গঠনের জন্য তাঁদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করবেন।
আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দলগুলোর নেতাদের খোলা মনে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেন।
নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা আইজেনকোট দুজনই পরবর্তী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কোনো জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাঁদের সামনে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ অপেক্ষা করছে। এর আগে কয়েক বছরের মধ্যে বারবার নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েও স্থায়ী সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছিল ইসরায়েল। এবারের ফলাফল দেশটিকে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au