জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর- খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও একটি প্রতিনিধি দল হঠাৎ আফগানিস্তানে পৌঁছেছে। দলটি জানিয়েছে, এই সফরটি কোনো রাজনৈতিক দলগত মিশন নয়—বরং এটি বাংলাদেশের আলেম সমাজের পক্ষ থেকে কাবুলে তালেবান সরকারের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্পর্কান্নয়ন ও আলাপন-আলোচনার জন্য।
দল সূত্রে বলা হয়েছে, কাবুলে তারা তালেবানের প্রধান বিচারপতি, একাধিক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে দলে বলা হয়েছে—মানবাধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে পশ্চিমা মহলে যে সমালোচনাসূচক ধারণা রয়েছে, তা বাস্তবে পরিদর্শন করে যাচাই করা এবং দুই দেশের আলেমদের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করা। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিও আলোচনায় থাকবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, “সফরটি দলীয় কোনো উদ্যোগ নয়; এটা ওলামা সমাজের প্রতিনিধি দল হিসেবে গেছে। যারা গেছেন তাদের মধ্যে অনেকে রাজনীতিক নন—তাই এটা রাজনৈতিক সফর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।” তিনি আরও বলেছেন, বহু সময় কিছু বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণা প্রচার হয়; তারা সেগুলো সরাসরি খতিয়ে দেখতে চান—বিশেষত নারী অধিকার সংক্রান্ত অভিযোগগুলো বাস্তবে কী রকম জ্বলজ্বল করছে তা দেখাই মূল লক্ষ্য।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বিস্ময় প্রকাশ করছেন—কারণ দেশের কোনো প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের আগে আফগানিস্তানে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় সফরের এমন নজির দেখা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, খেলাফত মজলিস সম্ভবত আফগানিস্তানের ইসলামিক শাসনের মডেল ও তার বাস্তবিক প্রয়োগ নিয়ে ধারণা নিতে গেছে। তিনি বলেন, “আফগান মডেল সম্পর্কে দেশের একটি শ্রেণির মানুষের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে; সম্ভবত তারা সেটি কিভাবে বাংলাদেশে কাজে লাগানো যায়, সেই সম্পর্কে ধারণা নিতে চায়।” তিনি সতর্ক করে বলেন, আফগানিস্তানের রিজিড শরিয়াপন্থী মডেল বাংলাদেশে সরাসরি প্রয়োগ সম্ভব নয়।
দলের মহাসচিব জালালুদ্দীন দাবি করেছেন, খেলাফত মজলিসের ওপর তালেবান সরকারের সাথে রাজনৈতিক কোনো আনুষ্ঠানিক সংযোগ নেই এবং বর্তমানে তাদের সঙ্গে কোনো নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণও নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমিরের দুইটি পরিচয়—একটি আলেম ও ইসলামিক স্কলার হিসেবে, আরেকটি দলীয় প্রধান হিসেবে—এই কারণেই অফিস থেকে সফর সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
সফর সংক্রান্ত প্রেক্ষাপটও জটিল: ২০২১ সালের পর থেকে অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি; কিছু দেশ অর্থনৈতিক লেনদেন বজায় রাখছে। তাছাড়া বাংলাদেশে আফগানিস্তানে কোনো স্থায়ী দূতাবাস নেই—উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাস আফগানিস্তানে সমদূরবর্তী মিশন হিসেবে কাজ করে থাকে। এসব প্রেক্ষাপটে একটি ধর্মীয় সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের তালেবান শাসিত আফগানিস্তান সফর যেন নতুন ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপিত করছে।
খেলাফত মজলিস ঘোষণা করেছে যে, মামুনুল হক সমেত সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি মধ্য এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশও সফর করবে। দলটি বলেছে—সফরটি ওমরাহ পালনের মাধ্যমে শুরু হয়ে দুবাই হয়ে কাবুলে পৌঁছানো হয়েছে। দলীয় নেতারা প্রত্যাবর্তনের পর সফরের বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে।
দলের এই সফর ঢাকায় তাদের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যেই হচ্ছে—এ দিন রাজধানীতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দলের অনুপস্থিতিকে তারা পূর্বঘোষিত সফরপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au