গাজার একটি ত্রাণকেন্দ্রে ত্রাণপ্রত্যাশীদের ভিড়। ছবি:সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলি হামলা ও অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ১৪১ জনে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭৯ জন, আহত হয়েছেন ২২৮ জন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বহু মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় পড়ে আছে, যেখানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না। মানবিক সহায়তা সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে গত এক দিনে নিহত হয়েছেন আরও ৯ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। ২৭ মে থেকে এভাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১৩, আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ হাজার ৪১৪ জন।
এর পাশাপাশি অপুষ্টি ও অনাহারে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়—এদের মধ্যে একজন শিশু। অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৫ ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ১৪৭ জন শিশু।
২০২৫ সালের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজার সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পর খাদ্য ও জ্বালানির মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। প্রায় ২৪ লাখ মানুষ এখন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসি সতর্ক করেছে, উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে, এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এটি দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ইসরায়েল আবারও হামলা শুরু করার পর থেকে গাজায় নিহত হয়েছেন আরও ১২ হাজার ৫৯০ জন, আহত হয়েছেন ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহল ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আর গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে।