তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল-আলের উড়োজাহাজছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর- আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো যদি সমন্বিতভাবে ইসরায়েলের জন্য আকাশপথ অবরোধ করে, তবে দেশটির অর্থনীতি, রাজনীতি ও নিরাপত্তায় ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আল হাবতুর রিসার্চ সেন্টার।
৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ছয়জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন। হামাসের কোনো শীর্ষ নেতা নিহত না হলেও এ হামলা মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর পরপরই কাতারে জরুরি বৈঠকে বসে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও আরব লীগ। বৈঠকে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
আকাশপথ অবরোধ হলে ইসরায়েলের জিডিপি ৪.৮% থেকে ৫.৭% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল-আলের আয়ের ৬০–৭৫% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।প্রতিটি ফ্লাইটের খরচ বাড়বে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত।পর্যটনশিল্প ও হীরা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মতো উচ্চমূল্যের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভূরাজনৈতিক প্রভাব: অবরোধে ইসরায়েল এশিয়া ও আফ্রিকার প্রবৃদ্ধিশীল বাজারে প্রবেশাধিকার হারাতে পারে।যুক্তরাষ্ট্র পড়বে কূটনৈতিক সংকটে—ইসরায়েলকে বাঁচানো নাকি আরব দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখা, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস পাবে।ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দেশটি এখন বিশ্বমঞ্চে “অন্তরিণ” হয়ে পড়েছে। তিনি জানান,
“আমরা হব একদিকে এথেন্স—জ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্র, আরেকদিকে সুপার স্পার্টা—অতি শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র। নিজেদের রক্ষা ও শত্রুকে আঘাত করার সক্ষমতা অর্জন করতেই হবে।”
আল হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা খলাফ আহমদ আল হাবতুর বলেছেন,
“শুরু থেকেই বলেছি, আরবদের হাতে কার্যকর চাপের হাতিয়ার আছে। এক হলে আমরা রক্ত ঝরানো ছাড়াই ইসরায়েলকে দুর্বল করে দিতে পারি।”
বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে এমন সমন্বিত অবরোধের সম্ভাবনা কম। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হবে এবং অবরোধকারী দেশগুলোরও অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ বলছে, আকাশপথ অবরোধ শান্তি ও যুদ্ধের মাঝামাঝি এক শক্তিশালী চাপের কৌশল। এটি কার্যকর হলে ইসরায়েল শুধু অর্থনৈতিক মন্দার মুখেই পড়বে না, বরং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিও মৌলিকভাবে পাল্টে যেতে পারে।