মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর- কাঁসা আর ঢাক ঢোলের তালে উৎসবের আমেজ। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হচ্ছে দেবী দুর্গাকে। চলছে ঘাটসহ পূজা অরচনার নানা অনুষঙ্গ স্থাপনের কাজ। শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
শারদীয় দুর্গাপূজার অপরিহার্য অংশ হিসেবে মহালয়া শুধু দেবী আবাহনের দিন নয়, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে নতুন শুভ সময়ের সূচনাও বটে। যেখানে সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই ভাগ করে নেয় উৎসবের আনন্দ। ভক্তদের বিশ্বাস, আজকের দিনে দশভুজা দেবী শক্তিরূপে মণ্ডপে মণ্ডপে অধিষ্ঠান নেবেন।
ভোরের আলো ফোটার আগেই মন্দিরে প্রতিধ্বনিত হয় চণ্ডীপাঠের সুর। আকাশে ভেসে বেড়ায় ঢাকের আওয়াজ আর ভক্তি সংগীত।মহালয়ার দিনে উৎসবের পাশাপাশি পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির জন্য পালন করা হয় পিতৃতর্পণ। যারা এ পৃথিবী ছেড়ে গেছেন তাদের শান্তি কামনা করেও পড়া হয় মন্ত্র। সাধারণত পুত্রসন্তানেরা পিতৃতর্পণ করে থাকেন। ভোরে ভক্তরা নদী বা জলাশয়ে পূজার ফুল দেন, প্রদীপ জ্বালিয়ে স্মরণ করেন আপনজনদের।
এদিন থেকেই শুরু হয় দুর্গাপূজার পূর্ণ প্রস্তুতি। শরতের শুভ্রতায় মণ্ডপে রঙ তোলা, প্রতিমা সাজানো আর ঢাক-ঢোলের শব্দে ভরে ওঠে চারপাশ। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে—বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। প্রতিবছর শরৎকালে কৈলাস পর্বত থেকে মা দুর্গার আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলার গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে উল্লাস।