জরুরি রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে এআই
মেলবোর্ন, ২ মে- জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরও নির্ভুল হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।…
মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর- দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থগিত থাকা বাণিজ্য আলোচনায় সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া বর্তমান শর্ত মেনে নিলে দেশটির অর্থনীতি ১৯৯৭ সালের আর্থিক সংকটের মতো অবস্থায় পড়তে পারে।
জুলাইয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মৌখিকভাবে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক কমাবে, এর বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে এখনো কাগজে-কলমে তা হয়নি, কারণ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
লি বলেন, “মুদ্রা অদলবদলের ব্যবস্থা ছাড়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের দাবিমতো ৩৫০ বিলিয়ন ডলার নগদে সরিয়ে সেখানে বিনিয়োগ করি, দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৯৭ সালের আর্থিক সংকটের মতো পরিস্থিতিতে পড়বে।”
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ও অভিবাসন ইস্যু
শুক্রবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লি আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের অভিবাসন অভিযানে শত শত কোরিয়ান আটক হওয়ার বিষয়, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ভাবছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা আলোচনাই তার নিউইয়র্ক সফরের কেন্দ্রে থাকবে। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
লি জুনে ক্ষমতায় আসেন, আগের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির দায়ে অপসারণ ও কারাদণ্ড দেওয়ার পর। লি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিশ্বকে জানাতে চান যে “গণতান্ত্রিক কোরিয়া ফিরে এসেছে।”
আগস্টে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম শীর্ষ বৈঠকে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার কথা জানান, যদিও যৌথ বিবৃতি হয়নি।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মকর্তারা জর্জিয়ায় হুন্দাই মোটরের ব্যাটারি প্ল্যান্টে অভিবাসন অভিযানে ৩০০-র বেশি দক্ষিণ কোরিয়ান কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। শিকল বাঁধা অবস্থায় তাদের ছবি প্রকাশ করায় দক্ষিণ কোরিয়ানদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। লি সতর্ক করেন, এতে কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হতে পারে।
তবে তিনি বলেন, এই অভিযান দুই দেশের জোটকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। বরং ট্রাম্প কর্মীদের থাকতে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, এজন্য তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। লি বিশ্বাস করেন না যে এটি ট্রাম্পের নির্দেশে হয়েছে, বরং অতিরিক্ত উৎসাহী আইন প্রয়োগকারীদের কারণে ঘটেছে। তিনি বলেন, “এটি ইচ্ছাকৃত নয়, যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে এবং আমরা যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নিতে কাজ করছি।”
লি’র কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে তার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই, বাণিজ্য আলোচনাও এ সফরের এজেন্ডায় নেই।
বাণিজ্য আলোচনায় প্রধান বাধা
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে জাপানের মতো চুক্তি মেনে নিতে হবে, নয়তো শুল্ক দিতে হবে।
লি জবাবে বলেন, “রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ মিত্ররা ন্যূনতম যুক্তিসঙ্গততা বজায় রাখতে পারবেই।”
সিউল প্রস্তাব দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অদলবদলের ব্যবস্থা করা হলে বাজারে আঘাত কমবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে রাজি হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। লি বলেন, জাপানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি আলাদা। জাপানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিগুণের বেশি, ইয়েন একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা, এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুদ্রা অদলবদল ব্যবস্থা আছে।
লি জানান, বিস্তারিত চুক্তি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। “বাণিজ্যিক যুক্তিসঙ্গততা নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত চুক্তিই এখন মূল কাজ, তবে এটাই সবচেয়ে বড় বাধা,” বলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, বিনিয়োগ তিনি নিজেই “নির্বাচন” করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে কোথায় টাকা যাবে। তবে জুলাইয়ে লি’র উপদেষ্টা কিম ইয়ং-বোম জানান, ঝুঁকি কমাতে দক্ষিণ কোরিয়া সুরক্ষাব্যবস্থা যোগ করেছে, যাতে অযৌক্তিক আর্থিক সহায়তা না দিয়ে কেবল বাণিজ্যিকভাবে টেকসই প্রকল্পগুলো সমর্থন করা হয়।
প্রতিরক্ষা খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার অবদানের বিষয়ে লি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ২৮,৫০০ সেনা কোরীয় উপদ্বীপে রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন নিরাপত্তা ও বাণিজ্য আলোচনাকে আলাদা রাখতে চায়। “আমাদের দ্রুত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে,” বলেন লি।
উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা
লি জানিয়েছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন। তবে পিয়ংইয়ং দক্ষিণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই আপাতত সংলাপের সম্ভাবনা নেই।
আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ট্রাম্পকে উৎসাহিত করেছেন। তবে লি’র মতে, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে কোনো বাস্তব আলোচনা এখন চলছে না।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি, তবে সরল প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়। বিষয়টি সংলাপ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজ ও সম্মেলনে কিম জং উন ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন।
লি বলেন, “এখন সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি শিবির ও গণতান্ত্রিক- পুঁজিবাদী দেশগুলোর একটি শিবির তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান যেকোনো সংঘাতের ফ্রন্টলাইনে ফেলে দিতে পারে।”
তিনি সতর্ক করেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যখন সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, তখন চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। “এটি কোরিয়ার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি। আমাদের সামরিক উত্তেজনা কমানোর জন্য বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে। আমাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজতে হবে।”
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au