পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার তিরাহ উপত্যকায় নিজেদের দেশেই বিমান হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার তিরাহ উপত্যকায় নিজেদের দেশেই বিমান হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী। সিএনএন নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার সামরিক বাহিনী দাবি করে যে, এ হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি)-এর গোপন আস্তানা।
কিন্তু হামলার পর জানা যায়, নিহতদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, টিটিপি যোদ্ধাদের একটি কম্পাউন্ডে বোমা তৈরির সামগ্রী বিস্ফোরিত হয়েছিল। এতে জঙ্গিদের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছে। হামলায় একাধিক বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা জাফর খানের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, টিটিপির দুই কমান্ডার আমান গুল ও মাসুদ খান ওই এলাকায় গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছিল। জায়গাটি রাস্তার পাশে বোমা তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযোগ আছে, জঙ্গিরা বেসামরিক লোকজনকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আহত শিশুদের অস্থায়ী বিছানায় শোয়া অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ ঘুরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সীমান্তবর্তী তিরাহ উপত্যকা খাইবার পাস ও খানকি উপত্যকার মাঝামাঝি অবস্থিত।
অন্য কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাত দুইটার দিকে পাকিস্তানি বায়ুসেনা সেখানে একের পর এক আটটি এলএস-৬ বোমা নিক্ষেপ করে। এতে প্রাণ হারান অন্তত ৩০ জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য একটি শিশুর, যার নিথর দেহ ধ্বংসস্তূপের ছাইয়ে ঢাকা অবস্থায় পড়ে আছে।
সুত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস