গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে সরকারের নতুন অবস্থান ।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন,১ জুলাই- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য, ভাষণ, অডিও কিংবা ভিডিও বার্তা দেশের কোনো গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোকে বিদ্যমান আইন ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য, ভাষণ, অডিও বা ভিডিও বার্তা টেলিভিশন, পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ বিষয়ে জারি করা নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে থেকে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই গণমাধ্যমকে সংবেদনশীল বিষয় প্রচারে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এমন কোনো বক্তব্য, তথ্য বা উপাদান প্রচার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা সহিংসতা, বিদ্বেষ, অস্থিরতা বা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সরকার আরও জানিয়েছে, গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকেও এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সরকারের এই নির্দেশনা প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংবাদিক সমাজ এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও, সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জনস্বার্থ, আইনের শাসন, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা জরুরি বলেও তারা মনে করছেন।