ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু
মেলবোর্ন,১ জুলাই- ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জর্ডানের একটি…
মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিমান থেকে বহুতল ভবন লক্ষ্য করে বোমা ফেলার পাশাপাশি স্থল অভিযানে অগ্রসর হয়েছে সেনারা। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৮৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এই হামলার ঘটনা ঘটল নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মুসলিম আট দেশের নেতাদের বৈঠকের সময়। আলোচনায় অংশ নেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটি হবে “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।” তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান বলেও দাবি করেন। বৈঠক শেষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
তবে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস। পরে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মুসলিম নেতারা ট্রাম্পের কাছে গাজার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁরা দ্রুত যুদ্ধবিরতি, ত্রাণ প্রবেশ ও জিম্মিদের মুক্তির ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে গাজা পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর উপকণ্ঠে তেল আল-হায়া এলাকায় ট্যাংক মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। আল-কুদস হাসপাতাল ও আল-শিফা হাসপাতালের কাছেও সেনাদের উপস্থিতি বেড়েছে, যা স্থানীয়দের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।
আকাশপথেও অব্যাহত হামলা চলছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজোউম জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের ঘুমের মধ্যেই নির্বিচার বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। বহুতল ভবনগুলোতে বৃষ্টির মতো বোমা ফেলছে ইসরায়েলি বিমান।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ।
এদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর বিশেষ দূত ওফার ব্রনসটাইন বলেছেন, আরও কয়েকটি দেশ শিগগিরই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। তাঁর মতে, ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান শুধু কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবেই সম্ভব।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে “ছলনাময়” বলে আখ্যা দিয়েছেন ইস্তাম্বুল জাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সামি আল-আরিয়ান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা সংকটে নিরপেক্ষ নয়, বরং ইসরায়েলের আগ্রাসনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার আগ্রাসন অব্যাহত। ইসরায়েলের দাবি, তারা হামাস দমনে অভিযান চালাচ্ছে; তবে নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজায় এখন মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে।
ট্রাম্প মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানালেও, বাস্তবে গাজায় ইসরায়েলের হামলা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনের বিপুল প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au