সিশেলসের রাজধানীতে ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দিরে মোদির প্রার্থনা। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন,১ জুলাই- তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সিশেলসে গিয়ে দেশটির একমাত্র হিন্দু মন্দির অরুল মিহু নবশক্তি বিনায়াগার মন্দির পরিদর্শন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় অবস্থিত এই মন্দিরে তিনি প্রার্থনা করেন এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তার এই সফরকে ভারত ও সিশেলসের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিশেলস মূলত সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত, নীল জলরাশি ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অরুল মিহু নবশক্তি বিনায়াগার মন্দির দেশটিতে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত রঙিন এই মন্দির স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে।
১৯৯২ সালে সিশেলসে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মিত হয়। দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ শতাংশ হিন্দু হলেও এই মন্দির তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শুধু উপাসনাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক আয়োজনেরও কেন্দ্রবিন্দু এই মন্দির।
মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়েছে ভগবান গণেশের উদ্দেশ্যে, যিনি দক্ষিণ ভারতে বিনায়াগার নামে পরিচিত। হিন্দু ধর্মে গণেশকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সৌভাগ্য এবং নতুন সূচনার দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। নতুন ব্যবসা, চাকরি কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো অধ্যায় শুরুর আগে অনেক ভক্ত এই মন্দিরে এসে প্রার্থনা করেন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকেও মন্দিরটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর প্রায় ১০০ ফুট উঁচু রঙিন গোপুরমে হিন্দু দেব-দেবী ও পৌরাণিক চরিত্রের অসংখ্য ভাস্কর্য খোদাই করা হয়েছে। বাইরের বর্ণিল সৌন্দর্যের বিপরীতে মন্দিরের অভ্যন্তর শান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে পরিপূর্ণ। ভেতরে রয়েছে গর্ভগৃহ, যেখানে ভগবান গণেশের বিগ্রহ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও বিভিন্ন উৎসব পালনের জন্য রয়েছে একটি প্রশস্ত মণ্ডপম।
প্রতি বছর গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে এই মন্দিরে সবচেয়ে বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফুল, আলোকসজ্জা ও ধর্মীয় আয়োজনে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দীপাবলি উৎসবও এখানে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়, যেখানে স্থানীয় হিন্দুদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও অংশ নেন।
সিশেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই মন্দিরে সহজেই ট্যাক্সি বা গণপরিবহনে পৌঁছানো যায়। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মন্দিরটি খোলা থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফর শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা পরিদর্শন নয়, বরং ভারত ও সিশেলসের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন, প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের অবদান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে।