মেলবোর্ন,১ জুলাই- পাকিস্তানের লাহোর শহরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধারে অভিযান চালায়। খবর ডন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অপারেশনস ফয়সাল কামরান জানান, উদ্ধার অভিযান শেষে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
লাহোর জেনারেল হাসপাতাল প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজনের বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনার সময় টিউশন সেন্টারটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু উপস্থিত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাড়ির মালিক এবং ভবন নির্মাণে জড়িত ঠিকাদারকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অবহেলার প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি ফয়সাল কামরান বলেন, ভবনটির একটি অংশ তখনও নির্মাণাধীন ছিল এবং ছাদ ধসে পড়ার সময় সেখানে শ্রমিকরাও কাজ করছিলেন। ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের ত্রুটি বা নিরাপত্তা অবহেলা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছে, ছাদ ধসে পড়ার পর দুটি কক্ষে থাকা শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। সংস্থাটির মুখপাত্র ফারুক আহমেদ বলেন, শিশুদের বয়স খুবই কম হওয়ায় তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়। তবে অনেককেই গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে এধি রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটির ছাদ টিআর গার্ডার ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণমান ও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক মাহমুদ জানান, ভবনটিতে একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টার পরিচালিত হতো, যা এলাকার এক নারী পরিচালনা করতেন।
দুর্ঘটনার পর লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আহত শিশুদের চিকিৎসায় অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, ভবনটির নির্মাণমান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং টিউশন সেন্টার পরিচালনার বৈধতা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।