ইউরোপে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১৩০০ মৃত্যু: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ইউরোপে এবার গ্রীষ্মের শুরুতেই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান…
মেলবোর্ন, ১o অক্টোবর- তথ্যই শক্তি—এই প্রবাদটি আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সত্য। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মাত্র চারজন শীর্ষ ধনীর নিয়ন্ত্রণে, যারা প্রযুক্তি-বাণিজ্যের পাশাপাশি তথ্যপ্রবাহের দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্স ও ফোর্বসের তথ্যানুসারে, বিশ্বের শীর্ষ চার ধনী ব্যক্তি হলেন ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস ও ল্যারি এলিসন। এঁরা এখন এমন সব প্রতিষ্ঠানের মালিক বা প্রধান বিনিয়োগকারী, যা কোটি কোটি মানুষের মতামত, সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে।
জেফ বেজোস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ২০১৩ সালে ২৫০ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তাঁর আর্থিক সহায়তায় পত্রিকাটি ডিজিটাল যুগে পুনর্জাগরণ ঘটালেও সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সমালোচকদের মতে, বেজোসের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সংবাদ প্রকাশে পত্রিকাটি কতটা স্বাধীন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইলন মাস্ক ও এক্স (টুইটার)
২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নাম বদলে ‘এক্স’ করেন ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি ‘বাক্স্বাধীনতা’ রক্ষা করছেন। তবে বাস্তবে অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ ও কনটেন্ট বাছাইয়ে তাঁর সরাসরি প্রভাব রয়েছে। কোন সংবাদ বেশি প্রচার পাবে আর কোনটি মুছে যাবে, সেই সিদ্ধান্তও এখন মূলত মাস্কের হাতে।
মার্ক জাকারবার্গ ও মেটা
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ সরাসরি কোনো সংবাদমাধ্যমের মালিক না হলেও, তাঁর অ্যালগরিদমই এখন কোটি কোটি মানুষের কাছে কোন সংবাদ পৌঁছাবে তা নির্ধারণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পরোক্ষ হলেও সবচেয়ে প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের এক রূপ।
ল্যারি এলিসন, টুইটার ও টিকটক
ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন সরাসরি কোনো সংবাদমাধ্যম কিনেননি, কিন্তু তিনি এক্স (টুইটার)-এর অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী। মাস্ককে টুইটার কেনার সময় ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেন তিনি। পাশাপাশি, টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওরাকল এখন প্ল্যাটফর্মটির ডেটা সংরক্ষণ ও অ্যালগরিদম তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। এর মাধ্যমে এলিসন পরোক্ষভাবে দুই প্রভাবশালী সামাজিক মাধ্যমেই ভূমিকা রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ধনকুবেরদের হাতে তথ্য নিয়ন্ত্রণের এই কেন্দ্রীয়করণ গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। কারণ, ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা যখন নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক হন, তখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম গবেষকেরা সতর্ক করেছেন—তথ্যের এই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সত্যনির্ভর তথ্য পাওয়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au