মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় টমব্লেইন শহরে একটি স্কাইডাইভিং স্কুলের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন স্কাইডাইভিংয়ের শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন প্রশিক্ষক রয়েছেন। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা কেউই প্রাণে বাঁচেননি।
রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানবন্দরের পাশের টমব্লেইন শহরের একটি সড়কে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে বিমানটিতে থাকা পাইলটসহ ১১ জনের সবাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি সড়কে বিধ্বস্ত হলেও আশপাশের কোনো ব্যক্তি বা স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, বিমানটিতে স্কাইডাইভিং প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনে অংশ নিতে যাওয়া একদল প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছিলেন। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের অংশ হিসেবেই বিমানটি উড্ডয়ন করেছিল।
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। উদ্ধারকাজ ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার এবং কারিগরি ত্রুটি, আবহাওয়া ও অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।