সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১o অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজের সমালোচনামূলক মন্তব্যের মাধ্যমে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “ওবামা কিছুই না করে দেশকে ক্ষতির দিকে ঠেলেছিলেন, অথচ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। এটি ছিল কেবল একটি প্রতীকী পুরস্কার, যা বাস্তব নীতি বা কার্যকর কূটনীতির প্রতিফলন করে না।”
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ওবামার সময়কালকার নীতি দেশকে দুর্বল অবস্থায় রাখে এবং এই পুরস্কার ছিল অযৌক্তিক স্বীকৃতি। ট্রাম্প বলেন, “আমার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আমাদের নীতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশকে শক্তিশালী করেছে। এই ধরনের অর্জনই প্রকৃত সাফল্য।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সমালোচনা নয়, বরং নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রাসঙ্গিকতা ও মান নিয়ে নতুন বিতর্ক উস্কে দিতে পারে। ট্রাম্পের সমর্থকরা এই বক্তব্যকে তার ‘কঠোর বিদেশনীতি ও শক্তিশালী নেতৃত্ব’ প্রদর্শনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, যেখানে তিনি প্রাক্তন প্রশাসনের ‘অকার্যকর নীতি’ এবং ‘কৌশলগত ব্যর্থতা’ তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মঞ্চে ইতিমধ্যেই ভিন্নমতের সৃষ্টি করেছে। ওবামার সমর্থকরা বলছেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তার সময়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও সংলাপের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের মন্তব্য আবারও প্রাক্তন প্রেসিডেন্টদের নীতি, শান্তি অর্জন এবং পুরস্কারের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মঞ্চকে আরও বিভক্ত করতে পারে এবং নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস ও প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উত্থাপন করছে।