লেবাননে ইসরায়েলি প্লাটুন কমান্ডার নিহত
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর সশস্ত্র সদস্যদের হামলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক প্লাটুন কমান্ডার নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে দেইর সিরিয়ান এলাকায় অভিযান চালানোর সময়…
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পলাতক বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তকারীদের ধারণা, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ থেকেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত দম্পতির বড় ছেলে, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইতালীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলার সময় পরিবারের বড় ছেলে আমির গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে রোমের জেমেলি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে ইতালির রোমে আসেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আরজু বেগমের প্রতি একতরফা আসক্ত ছিলেন। সেই সম্পর্ক প্রত্যাখ্যাত হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ধারালো দা জাতীয় অস্ত্র নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে প্রথমে আরজু বেগম ও তাদের কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশার ওপর হামলা চালান। পরে কামাল উদ্দিন বাবুলকেও হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহগুলো ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন বড় ছেলে আমির। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে সাহায্য চাইছিলেন এবং হামলাকারীর নাম শাহাদাত হোসেন বলে উল্লেখ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর থেকেই শাহাদাত হোসেন পলাতক রয়েছেন। ইতালির পুলিশ তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনের তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং নিহত পরিবারের স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, নিহত পরিবার ও সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেন উভয়ের বাড়িই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। কামাল উদ্দিন বাবুল ২০০৯ সালে স্ত্রীকে নিয়ে ইতালিতে বসবাস শুরু করেন। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেন প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে রোমে চলে আসেন।
রোমের প্রসিকিউটর অফিস এ ঘটনায় হত্যা ও গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা করেছে। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পলাতক শাহাদাত হোসেনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের সব কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: লা স্তাম্পা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au