মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে “ট্রাম্প-মধ্যস্থতা চুক্তি” নামে পরিচিতি পায়।
29 সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ট্রাম্প ও ইস্রায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেটানিয়াহু মিলিতভাবে একটি ২০-বিন্দু “গাজা শান্তি পরিকল্পনা” ঘোষণা করেন, যাতে যুদ্ধবিরতি, বন্দী মুক্তি, শান্তিপূর্ণ শাসন ও সাময়িক শাসন কাঠামো প্রবর্তনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
- বন্দী ও ইসরায়েলি জেলহল থেকে মুক্তি
- ইসরায়েলি বাহিনীকে নির্ধারিত সীমান্তে সরে যাওয়া
- গাজার শাসন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন কাঠামোর প্রস্তাব
- একটি আন্তর্জাতিক শান্তি পর্যবেক্ষক বাহিনী (multinational stabilization force) গঠন প্রস্তাব
এই পরিকল্পনা ছিল চুক্তির ভিত্তি, এবং ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই ফ্রেমওয়ার্ক গঠন ও সদস্য দেশগুলোর সমর্থন জোগাতে।
ট্রাম্প সরাসরি মধ্যস্থতা চালাননি, কিন্তু তিনি তার প্রতিনিধি ও দলের মাধ্যমে বিভিন্ন ভূমিকা সাজান: স্টিভ উইটকফ (Steve Witkoff) এবং জ্যারেড কুশনার (Jared Kushner)-ট্রাম্পের একদল প্রতিনিধি।আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নেন এবং চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করেন।মধ্যস্থতাকারী দেশ যেমন কাতার, মিশর ও তুরস্ক সমর্থন ও সহযোগিতা দেন, যা ট্রাম্পকে দিকনির্দেশনা ও চাপ প্রয়োগে সহায়ক হয়।আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন পেতে ট্রাম্প আলোচনায় “গভীর কূটনীতি” প্রয়োগ করেন, যাতে তারা চুক্তির প্রতিশ্রুতিতে যুক্ত হয়।
এইভাবে, ট্রাম্প নিজেকে চুক্তির “গ্যারান্টর” হিসেবে দাঁড় করান, যা অনেক রাষ্ট্রের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
ট্রাম্প চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেন: ইসরায়েলকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করা হয়, যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন যুক্তি ও সমর্থন দিয়ে।
কাতার ও মিশরকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহৃত করা হয়, এবং তাদেরকে চুক্তির অংশগ্রহণে যুক্ত করা হয় , যা হামাসকে আলোচনায় টেনে আনার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। ট্রাম্প সময়-সীমা নির্ধারণ করেন, যেমন বন্দীদের মুক্তি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে,এটা আলোচনায় এক ধরনের উত্তেজনা ও চাপ হিসেবে কাজ করে।
যুদ্ধবিরতি শুরুর শর্ত হিসাবে কৌশলগত ছাড় (concessions) দেওয়া হয়, যা ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষকে রাজি যেতে সহযোগী হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে, ইসরায়েল এবং হামাস “প্রথম ধাপ” চুক্তির ওপর সম্মতি দেয়।
চুক্তির মূল বিষয়গুলো: যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা,বন্দী ও জেলহল থেকে মুক্তি,ইসরায়েলি বাহিনী নির্ধারিত সীমান্তে সরে যাওয়া,পর্যবেক্ষক বাহিনী ও মনিটরিং ব্যবস্থা গঠন |বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষক ও সৈন্য দল আগমন শুরু করেছে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা করার জন্য।
চুক্তি সত্ত্বেও বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে: হামাস পুরোপুরি অস্ত্রসমর্পণ করতে রাজি হয়নি চুক্তিতে এই দিক স্পষ্টভাবে বিবেচিত হয়নি পার। গাজার শাসন ও ভবিষ্যত প্রশাসন কে নেবে ,এই বিষয় এখনো অনিশ্চিত।চুক্তি বাস্তবায়নে বিশ্বাস ও তদারকি কাঠিন্যপূর্ণ , দুই পক্ষেরই শর্ত ও বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে।
ট্রাম্প গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব করতে মূল ভূমিকা নিয়েছেন একটি ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা চালিয়ে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্ররোচনা প্রয়োগ করে, এবং একটি অর্থবহ শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।
তবে এটিকে সম্পূর্ণ বিজয় বলা মুশকিল ,ভবিষ্যত বাস্তবায়ন ও প্রতি পক্ষের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভর করবে এই চুক্তির স্থায়ীতা।