মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্থানের আফগান সীমান্তের কাছে শুক্রবার একটি সামরিক আড্ডা (ক্যাম্প) লক্ষ্য করে চালানো আত্মঘাতী হামলায় অন্তত সাতজন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত এবং অনেক আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র। ঘটনার সময় একাধিক জঙ্গি ক্যাম্পে ঢুকতে চাওয়া এবং তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গুলির লড়াই হয়েছে।
পাকিস্তান নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হচ্ছে একটি ভারী বিস্ফোরকবাহী যান ঢুকে ক্যাম্পের সীমানা প্রাচীরকে ধাক্কা দিয়ে বিস্ফোরিত হয়; এরপর ক্যাম্পে ঢুকতে চাওয়া বাকি কয়েকজন দুর্ধর্ষদলীয় সদস্য নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি বিনিময়ে নিহত হয়। ঘটনা নিয়ে জরুরি প্রতিক্রিয়া দেখাতে সেনাবাহিনী ও পাস্মার্ক ব্যবস্থা পাঠানো হয় এবং আঘাতপ্রাপ্তদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, নিহত সেনাদের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে সাতটি নির্ধারিত হলেও আহতের সংখ্যা ও অবস্থার বিষয়ে রিপোর্ট এখনও অসম্পূর্ণ; বিভিন্ন সূত্রে আহতের সংখ্যা পার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত তথ্যের অপেক্ষা আছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় রিপোর্টে এই হামলাটির দায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর আনা হচ্ছে; পরবর্তীতে জঙ্গিগোষ্ঠী নিকটস্থ কিছু সূত্র এটিকে ‘সমন্বিত হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে সরকারি পক্ষ থেকে দায় স্বীকার ও অভিযুক্তদের শনাক্তকরণে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও দেয়া হয়নি অতএব অভিযোগ ও দাবির বিষয়টি তদন্তাধীন।
ঘটনাটি এমন এক সময় সংঘটিত হলো যখন পাকিস্তান ও আফগান সীমান্তে গত কয়েক সপ্তাহে উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘাতে কিছুটা ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে সীমান্তে অগ্নিগোলায় বিরতি (বদল) বা আংশিক যুদ্ধবিরতি লঘু সময়ের জন্য কার্যকর ছিল, কিন্তু এই ধরনের আক্রমণ সেই আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন উত্তরের ওয়াজিরিস্তান ও নিকটবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার ও বিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানোর আহ্বান দেখা দেবে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তদের শনাক্তে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিরাপত্তা শীর্ষকরা কেবলঃ বলেছে “ঘটনার পুরো বিবরণ ও দায়ের তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে” এবং সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা এসেছে। একই সময়ে স্থানীয় প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সামরিক ও নাগরিক সেবা একযোগে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল এই সীমান্তাঞ্চলে এ রকম আক্রমণ আবার বৃদ্ধি পেলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শরণার্থী-প্রবাহ বিষয়ক নীতি উভয়ই চাপের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে গুপ্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলতে থাকলে পাকিস্তান ক্রস-বর্ডার প্রতিক্রিয়া চালাতে পারে; যা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াবে।
আজ উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সীমান্তবর্তী একটি সামরিক ক্যাম্পে চালানো আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে সাত পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছেন; ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের চূড়ান্ত চিত্র জানার জন্য সরকারি তদন্ত চলছে। ঘটনার দায় ও প্রেক্ষাপট তদন্তে আসছে তথ্য আপডেট পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সংযোজন করা হবে।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড