নেতাজীর চিঠিপত্র: কালির ভেতর লুকানো রাষ্ট্রদর্শ
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- ইতিহাসের বড় বড় নেতা বক্তৃতা দিয়ে গেছেন। কিন্তু চিঠি আলাদা জিনিস। বক্তৃতা হলো মঞ্চ, চিঠি হলো ঘর। মঞ্চে মানুষ অভিনয় করে, ঘরে…
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য পৃথক দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরলে তার সরকারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেবে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বহুদিনের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেন, তিনি যে জাতীয় সরকার গঠন করতে চান, তার অন্যতম মৌলিক নীতি হবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে প্রত্যাখ্যান করা।
নেতানিয়াহু বলেন, “আমি যে জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই, তার অন্যতম নীতি হলো দুই রাষ্ট্রের কোনো জায়গা নেই। সমুদ্র থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত দুটি রাষ্ট্রের কোনো স্থান নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, কয়েক বছর আগেও ইসরায়েলে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে জনমত বিভক্ত ছিল। অনেক নাগরিক তখন এই প্রস্তাবকে সমর্থন করতেন। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পর সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে তার দাবি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের আগে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ মানুষ সেই ধারণা থেকে সরে এসেছেন এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রত্যাখ্যান এখন জাতীয় ঐকমত্যের অংশে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ যেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য সেই সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতেই নেতানিয়াহু আবারও কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্য ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au