কলম্বিয়ার কলম্বিয়া-ভেনিজুয়েলা সীমান্তে সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক সেতুর চারপাশে ভেনিজুয়েলার সামরিক টহল। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো পরে-মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রকে তৎপরতা ও ‘হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে দেশটিতে হাজারো সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের বার্তা এবং সামরিক প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে; বিষয়টি বিশেষ করে ইউএস নামাঙ্কিত নৌসামুদ্রিক অভিযানের ও একাধিক যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আক্রমণের প্রেক্ষাপটেই ঘটছে।
ভেনিজুয়েলা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে আধা-সামরিক মিলিশিয়া ও নিয়মিত সেনাবাহিনীকে দেশের পশ্চিম, উত্তর ও বিশেষত কারিবীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে সীমান্তবর্তী ঘটনার সম্ভাব্যতা মোকাবিলায় রইছে অতিরিক্ত ইউনিট ও বিমানসেনা। মাদুরো সরকার সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে যুবসমাজকে ‘রিপাবলিকা ইন আর্মস’ (armed republic) হিসেবে সক্রিয় করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
মাদুরো প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামুদ্রিক ও বিমানগত উপস্থিতি, দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের “নিষ্ক্রিয়” বলপ্রয়োগের হুমকি ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এবং এই পরিস্থিতিকে প্রতিরোধ করতে দেশকে প্রস্তুত হতে হবে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ও বিশেষ অপারেশনের উপস্থিতি ও কৌশলগত হামলার কয়েকটি ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, যেগুলোকে ভেনিজুয়েলা ‘অগ্রাসন’ হিসেবে দেখছে।
ওয়াশিংটন ওই নৌসামরিক ও বিমানিক কার্যক্রমকে অবৈধ ড্রাগ পরিবহন প্রতিরোধ ও নৌপথ নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে; কয়েকটি কালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা সংলগ্ন জলসীমায় ‘অবৈধ মাদক চালিত জাহাজ’ লক্ষ্য করে স্ট্রাইকের কথা স্বীকারও করেছে, যা মাদুরো সরকার তীব্রভাবে নিন্দা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক শীর্ষস্থানীয়রা বলেছে উদ্দেশ্য ন্যস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তবে অনেকে এটাকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে বিশ্লেষণও করছে।
ভেনিজুয়েলা জাতিসংঘে একটি নোট পাঠিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে “অবৈধ” ও “আন্তরিক হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং নিরাপত্তা পরিষদের একটি উদ্বেগপ্রকাশী সমাধান দাবি করেছে তবে মার্কিন ভেটোর সম্ভাবনা থাকায় তা বাস্তবে কার্যকর হবার সম্ভাবনা কম। মাদুরো additionally রাশিয়া ও চীনকে এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন আহ্বান করেছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন , নীরস কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে যদি কেউ অপচেষ্টা বা ভুল কণ্ঠন কর্তৃক সাড়ে-ঘটনা নেয়। ভেনিজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা ও অর্থনৈতিক সংকট দেশটির সামরিক প্রস্তুতির কার্যকারিতা সীমিত করতে পারে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্ধারিতভাবে ভূমি-অভিযান শুরু করে, তাহলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উভয়পক্ষকে দমনের আহ্বান জানাচ্ছেন এবং কূটনৈতিক সুরাহা খোলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
কারাকাসসহ বড় শহরগুলোতে শপিং মল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে; মিলিশিয়া ও সেনাবাহিনী কূটনীতিকভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের রপ্তানি-প্রক্রিয়ায়ও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের ইতিমধ্যেই দুর্বল অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন।
ভেনিজুয়েলার সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় হাজারো সেনা মোতায়েন মাদুরোর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া স্পষ্ট সংকেত কিন্তু এই মুহূর্তে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক পথে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে জরুরি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে পরিস্থিতি লঘুকরণে মধ্যস্থতা করতে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।
সুত্রঃ এএফপি