মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- যুদ্ধবিরতির অল্প সময় পরই আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে প্রদেশটির একাধিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ছয়জন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর আফগান সেনারাও সীমান্ত এলাকায় পাল্টা হামলা শুরু করে, ফলে দুই দেশের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আফগান তালেবান সরকারের জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, পাকতিকার উরগুন ও বারমাল জেলাগুলোয় পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের দিকে পাকিস্তানি ড্রোন আবাসিক এলাকায় বোমা ফেলে, যার ফলে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় ও মানুষ আতঙ্কে পালিয়ে যায়।
পাকতিকার কমান্ডিং সেন্টার খামা প্রেসকে জানায়, “বিনা উস্কানিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভৌগলিক অখণ্ডতা আবারও লঙ্ঘন করেছে।” তারা আরও দাবি করে, হামলায় নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজন শিশু ও দুইজন নারী ছিলেন।
এ ঘটনার আগে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “পাকিস্তান যদি উস্কানি না দেয়, আফগানিস্তান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না।” কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা চালানো হয়।
পাকতিকার সরকারি কর্মকর্তারা জানান, হামলার পরপরই আফগান বাহিনী সীমান্তে পাল্টা গোলাবর্ষণ শুরু করে এবং সতর্কতা জারি করে। তাদের আশঙ্কা, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা সীমান্ত পার হয়ে আরও বড় আকার নিতে পারে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারস্পরিক ‘বিশ্বাসের ঘাটতি’ রয়েছে। সীমান্ত বিরোধ, তালেবান ইস্যু এবং সীমান্ত নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় নতুন সংঘাত শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: খামা প্রেস