মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- কাবুল ও আশেপাশের অঞ্চলে আবারও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে যা পাকিস্তানিক সেনা-অভিযান হিসেবে আফগান কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে হতাহতের সংখ্যা ভিন্নভাবে দেওয়া হলেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে যে এই হামলায় কয়েকটি স্থানে মোটদিয়ে দশের কাছাকাছি নিহত হয়েছে এবং বহু আহত ছাড়াও বসতি-ভঙ্গ ও বাঁচার জায়গা হারানো মানুষের আক্রমণ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পাকিস্তানী বিমানের আঘাতে কাবুলসহ দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের কিছু স্থানে ড্রোন/বোমা হামলা চালানো হয়েছে; পাকিস্তান ঘাঁটিতে আশ্রয় নেওয়া বলে সন্দেহভাজন মিলিশিয়া ও তৎপর গোষ্ঠী (বিশেষত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান TTP) কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আঘাত করার কথা বলা হচ্ছে। আফগান পুলিশ ও স্থানীয় হাসপাতালগুলো আহত ও নিহতদের সংখ্যা সংগ্রহ করেছে; সরকারি বিবৃতি ও হাসপাতাল সূত্রের তথ্য মিলিয়ে সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলে কয়েকজন শিশু ও গৃহবধূও আহত বা নিহত হয়েছেন; বিভিন্ন রিপোর্টে মোট হতাহতের সংখ্যা আলাদা-আলাদা দেওয়া হচ্ছে (কেউ বলছে ১০, কেউ বলছে ১২ বা ততোধিক)। এই অনিশ্চয়তা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর রিপোর্টিং এবং প্রতিটি স্থানের তাত্ক্ষণিক জরুরি রিপোর্টের পার্থক্যের কারণে।হামলার ফলে বাসস্থান ধ্বংস ও লোকজনের স্থানচ্যুতি ঘটেছে; স্থানীয় সরকারি ও মানবিক সংস্থাগুলি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।
পাকিস্তান বলছে হামলাগুলো তাদের ক্ষেত্রে ঘাঁটি করে থাকা অস্ত্রসজ্জা ও জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত প্রতিরোধী অপারেশন; তারা এসব কার্যক্রমকে সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়াস হিসেবে উপস্থাপন করছে। পক্ষান্তরে কাবুল (আফগান তালেবান ব্যবস্থাপনা) এসব আক্রমণকে ঘোরতরে নিন্দা করেছে এবং বলেছেন যে সশস্ত্র আঘাত ও নাগরিক হতাহতের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা হবে।
গত কয়েকদিনে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে উঠেছে ইতোমধ্যে ৪৮ ঘণ্টার অনবরত যুদ্ধবিরতি (truce) চেষ্টা হলেও ফের সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। কাতারসহ কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশই দুই পক্ষকে আলোচনায় ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন,পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করার নামে সীমান্ত পেরিয়ে হয়তো স্বল্প মেয়াদি সামরিক ক্রিয়া হবে, কিন্তু এ ধরনের আঘাত দীর্ঘমেয়াদে শরণার্থী সঙ্কট, প্রতিশোধমূলক হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। তাছাড়া, লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা গেলেও উচ্চশহরিয় ক্ষতি ও নেগেটিভ কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলা শক্ত।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় – বিশেষত প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো নাগরিক জীবন রক্ষা ও দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্রীড়া-আয়োজন ও আন্তর্জাতিক ইভেন্টেও প্রভাব পড়েছে (উদাহরণ: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও অন্যান্যে আফগান প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা)।
ভবিষ্যৎ দিক: যদি তৎপরতা ও সীমান্তীয় আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তাহলে উপকেন্দ্রিকভাবে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট, সীমান্ত সংঘাত এবং মানবিক সঙ্কট দেখা দিতে পারে; মধ্যস্থতা না হলে বেশিরভাগ বিশ্লেষকই আশঙ্কা করছেন যে সহিংসতা নতুন দফায় বাড়তে পারে।
হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংখ্যা ১০–১২ বা তার ওপরে বলা হয়েছে এ কারণে প্রতিবেদনে আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছি। অফিসিয়াল, চূড়ান্ত গণনা বলে ঢোকানো হলে সেই অনুযায়ী সংখ্যা আপডেট প্রয়োজন হবে।
টার্গেট সম্পর্কে দ্বিমত রয়েছে। পাকিস্তান দাবী করে এটা সশস্ত্র-সন্ত্রাসি জন্য নির্দিষ্ট অপারেশন; কাবুল ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সূত্র নাগরিক ক্ষতির উপর গুরুত্ব দিয়ে নিন্দা করেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স