আবারও কাঁপল ভেনেজুয়েলা, মৃত ৯২০, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ ও…
মেলবোর্ন, ২৬ অক্টোবর- আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে বিপুল জয় পেয়েছেন বামপন্থী স্বাধীন প্রার্থী ক্যাথেরিন কনোলি। শনিবার ঘোষিত ফলাফলে তিনি মোট ভোটের প্রায় ৬৩ শতাংশ পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এ ফলাফলের মাধ্যমে তিনি আয়ারল্যান্ডের দশম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিদার হামফ্রিস পান মাত্র ২৯ শতাংশ ভোট। দেশজুড়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। তবে কম ভোটার উপস্থিতি সত্ত্বেও কনোলির এই বিজয়কে আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কনোলি দীর্ঘদিন ধরেই আয়ারল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যালওয়ে অঞ্চলের সংসদ সদস্য এবং সমাজকল্যাণ ও মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় এক রাজনীতিক। বড় কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার ছাড়াই তিনি মাঠে নেমেছিলেন এবং মূলত বামপন্থী ও তরুণ ভোটারদের সমর্থনে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলেন।
তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য ছিল-সামাজিক ন্যায়বিচার, গৃহনির্মাণ সংকটের সমাধান, পরিবেশ রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা। কনোলি বলেন, “আমি এমন এক আয়ারল্যান্ড চাই যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকবে, কেবল ধনী বা প্রভাবশালীদের নয়।”
ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর পরই ডাবলিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যাথেরিন কনোলি বলেন,
“এই বিজয় কেবল আমার নয়, এটি সেই জনগণের জয় যারা পরিবর্তন চায়। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-আমি সবার প্রেসিডেন্ট হব, এমনকি যারা আমাকে ভোট দেননি, তাদেরও।”
অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী হিদার হামফ্রিস ফলাফল মেনে নিয়ে কনোলিকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, “এটি আয়ারল্যান্ডের গণতন্ত্রের শক্তি প্রমাণ করে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিতে বড় একটি মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ এই নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, “ক্যাথেরিন কনোলির এই জয় আয়ারল্যান্ডে বামপন্থী আন্দোলনের জন্য এক বিশাল সাফল্য এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।”
নির্বাচনের পর দেওয়া ভাষণে কনোলি জানান, তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার হবে জাতীয় ঐক্য, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলা। তিনি বলেন,
“আমরা এমন এক সমাজ গড়ব যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি সেই ঐক্যের প্রতীক হতে চাই।”
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au