ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে…
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- প্রায় সপ্তাহব্যাপী এশিয়া সফর শেষে একের পর এক চুক্তি ও সম্পর্ক জোরদারের বার্তা নিয়ে ফিরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মালয়েশিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সফরের সময় ট্রাম্পের প্রতি স্থানীয় নেতাদের প্রশংসা ও সৌজন্যতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল রাজনৈতিক কৌশল যেখানে প্রশংসাই হয়ে উঠেছে নতুন কূটনৈতিক হাতিয়ার।
গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম এশিয়া সফর। সফরের সূচনা মালয়েশিয়া থেকে, এরপর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। সফর শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার পাঁচ দিনের সফরসূচি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ট্রাম্পকে “অদম্য মানসিকতা ও সাহসিকতার প্রতীক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যা আগে অকল্পনীয় ছিল।
জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আরও এগিয়ে গিয়ে জানান, তিনি ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ট্রাম্পকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা “গ্র্যান্ড অর্ডার অব মুগুংহওয়া” এবং প্রতীকী স্বর্ণমুকুট উপহার দেন।
প্রশংসা ও উপহার বিনিময়ের ফলও দ্রুত এসেছে। মালয়েশিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া-তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য আলোচনা শেষ করে নতুন অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এসব চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে বাজারে অধিক প্রবেশাধিকার, আর অংশীদার দেশগুলো পেয়েছে শুল্ক ছাড় ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি।
চীনও ট্রাম্পকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাকে “বিশ্বমানের নেতা” আখ্যা দিয়ে বলেছেন,
“ট্রাম্প ও শি জিনপিং পরস্পরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও যোগাযোগ বজায় রাখছেন।”
সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক হেনরি গাও মনে করেন, এশিয়ার দেশগুলো ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য “প্রশংসা-কূটনীতি”র পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি বলেন,
“এশিয়ায় রাজা ও সম্রাটদের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রশংসার ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। সেই সংস্কৃতিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। নেতাদের প্রশংসা করা এখন একপ্রকার কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
গাও আরও যোগ করেন, কেবল এশিয়া নয়-বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নেতারাও এখন ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রশংসা ও সৌজন্য প্রদর্শনকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ট্রাম্পের এই সফর শুধু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চুক্তির সাফল্যই নয়, বরং এক নতুন ধরনের কূটনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেছে-যেখানে প্রশংসা, উপহার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কই নির্ধারণ করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au