বিতর্কিত ১০০ কোটি ডলারের এলএনজি চুক্তি, বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে উচ্চ ব্যয়ের একটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক…
মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- রাজধানীর বছিলায় এক তরুণী গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে নিজের জুতা হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২৭ অক্টোবর, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সামনের আসনে বসা এক ব্যক্তি তরুণীর পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণী ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। এরপর লোকটি উঠে তরুণীকে চড় মারেন এবং ধাক্কা দেন। দুজনই জুতা খুলে একে অপরের দিকে তুলেন। লোকটি বারবার তরুণীর গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে, কিন্তু বাসের বেশির ভাগ যাত্রী নীরব ছিলেন। সামনে বসা দুই নারী ও একজন পুরুষ সামান্য প্রতিবাদ করলেও কেউ সরাসরি এগিয়ে আসেননি। একাই জুতা হাতে লড়তে থাকেন তরুণী।
হেনস্তাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে নিজাম উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি রমজান পরিবহনের চালকের সহযোগী। র্যাব-৪ বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করে। থানার ওসি কাজী রফিক জানান, শুক্রবার ওই তরুণী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা করেছেন। নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, হাফ ভাড়া নিয়ে তর্কের সময় কনডাক্টর তরুণীর পোশাক নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন এবং তাঁকে আঘাত করেন। আইন অনুযায়ী, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের তিন থেকে দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণী
ওই তরুণী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমি সেই তরুণী, যাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে খুব ট্রমাটাইজড ছিলাম। এখন মোহাম্মদপুর থানায় যাচ্ছি। এই ভিডিওটা নিরাপত্তার জন্য রেখে যাচ্ছি।”
তরুণীর দুই বন্ধু জানান, তিনি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বন্ধু বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন এবং বিচার চাওয়ার ব্যাপারেও দ্বিধায় আছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের আরেক বন্ধু জানান, তিনি কিছুটা অসুস্থ এবং বিশ্রাম নিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর সাহসিকতা প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই তাঁর হাতে জুতা তোলা ছবিকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন। উন্নয়নকর্মী সাবিনা পারভীন লিখেছেন, “মুখ সামলে রাখুন, না হলে হাত সামলানো মুশকিল হবে।” কেউ কেউ তাঁকে “দাম দিয়ে মোটা শক্ত জুতা কিনে রাখার” পরামর্শও দিয়েছেন।
গণপরিবহনে হয়রানি ও যৌন সহিংসতার ইতিহাস
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনে নারীদের প্রতি হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। ২০২২ সালে আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা যায়, ঢাকায় চলাচলকারী ৬৩ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী গত ছয় মাসে গণপরিবহনে কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের ৭৫ শতাংশ জানান, হয়রানিকারী ছিলেন অন্য যাত্রী; ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে সহকারী বা কনডাক্টর।
এর আগে বেশ কিছু ভয়াবহ ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। ২০১৭ সালে চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন চাকরিজীবী নারী রূপা। ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জে একজন নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ২০২২ সালে গাজীপুরে চলন্ত বাস থেকে স্বামীকে ফেলে দিয়ে এক নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এসব ঘটনার পরও গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তেমন উন্নত হয়নি।
নিরাপত্তায় উদ্যোগ
নারীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় ১০৮টি বাসে সিসি ক্যামেরা বসায়। কিন্তু এক বছর পর প্রকল্পটি শেষ হয়ে গেলে তার পর্যবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়।
উপসচিব ও প্রকল্প পরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, “এভাবে অল্পসংখ্যক বাসে ক্যামেরা বসিয়ে হয়রানি রোধ সম্ভব নয়। সব বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে সড়ক পরিবহন বিভাগকে উদ্যোগ নিতে হবে।”
এছাড়া, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেসি) ও সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালের মার্চে চালু করে “HELP” অ্যাপ, যার মাধ্যমে যাত্রী বা সাক্ষী যেকোনো নারী হয়রানির অভিযোগ জানাতে পারেন। অ্যাপের ‘অ্যালার্ট’ অপশন চাপলে ভুক্তভোগীর অবস্থান সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায়। এখন পর্যন্ত ৭০০টির বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৫০টির সমাধান হয়েছে।
বছিলার সেই তরুণী এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠেছেন সাহসের প্রতীক। তিনি একা লড়েছেন, কিন্তু তাঁর লড়াই যেন ভবিষ্যতে আর কোনো নারীকে একা না হতে হয়। এই প্রত্যাশাই এখন সবার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au