মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- আফগানিস্তানে নারীদের জন্য নতুন করে আরেকটি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে তালেবান প্রশাসন। এবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হলে নারীদের অবশ্যই বোরকা পরে আসতে হবে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, তালেবান সরকারের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক গোপন নির্দেশনায় হাসপাতাল প্রশাসনগুলোকে জানিয়েছে যে, কোনো নারী বোরকা ছাড়া হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না,চিকিৎসা নিতে হোক বা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হোক। নির্দেশনাটি দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালের জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে।
একজন স্বাস্থ্যকর্মী আল জাজিরাকে জানান, “নতুন নিয়মের ফলে অনেক নারী রোগী চিকিৎসা নিতে এসে বিব্রত হচ্ছেন। কেউ কেউ জরুরি অবস্থায়ও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি বলেন, আগে শুধু মাথায় ওড়না পরলেই চলত, এখন পুরো শরীর ঢেকে বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তালেবান প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা আশঙ্কা করছে, এতে অনেক নারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা আগেই দুর্বল।
তালেবান সরকার অবশ্য দাবি করছে, এই পদক্ষেপ “ইসলামী শালীনতা বজায় রাখার” অংশ। তারা বলেছে, নারীদের মর্যাদা রক্ষায় এটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তবে আন্তর্জাতিক মহল এই নির্দেশনাকে নারী অধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছে।
২০২১ সালে ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকে তালেবান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ভ্রমণ এবং জনসমক্ষে উপস্থিতির ওপর ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে। নতুন এই হাসপাতাল নির্দেশনা সেই সীমাবদ্ধতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।